বিধানসভায় ধুন্ধুমার! কুণাল ঘোষকে চ্যাংদোলা করে বের করল মার্শাল, সরাসরি ‘অসভ্যতামি’ বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

রাজ্য বিধানসভার অন্দরে ঘটল এক চরম নাটকীয় ও নজিরবিহীন ঘটনা। বিরোধী দলের মুখ্য সচেতকের বক্তব্যে প্রকাশ্যেই বাধা দেওয়া এবং ওয়েলে নেমে হট্টগোল পাকানোর অভিযোগে একদিনের জন্য বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (কালীঘাটপন্থী) বিধায়ক কুণাল ঘোষ। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, অধ্যক্ষের নির্দেশ অমান্য করায় মার্শাল ডেকে তাঁকে কার্যত চ্যাংদোলা করে বিধানসভা কক্ষের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় শাসক শিবিরের অন্দরেও তৈরি হয়েছে তীব্র অস্বস্তি।
ঠিক কী ঘটেছিল বিধানসভায়?
মাইক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা: এদিন বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন বক্তব্য রাখছিলেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখেরুজ্জামান। ঠিক সেই মুহূর্তেই আচমকা নিজের আসন ছেড়ে সোজা ওয়েলে নেমে আসেন কুণাল ঘোষ। দ্রুত পায়ে এগিয়ে যান আখেরুজ্জামানের মাইকের সামনে এবং চেঁচামেচি শুরু করেন। তাঁর প্রধান ক্ষোভ ছিল, তাঁকে কেন বক্তব্য রাখতে দেওয়া হচ্ছে না?
বচসা ও হট্টগোল: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজেপি বিধায়কদের একাংশের পাশাপাশি ছুটে আসেন বিধানসভার মার্শালরাও।
মার্শালের মাধ্যমে বহিষ্কার: অধ্যক্ষ নিজের আসন থেকে বারবার কুণালকে শান্ত হয়ে নিজের আসনে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি তা কর্ণপাত করেননি। বাধ্য হয়েই স্পিকারের নির্দেশে মার্শালরা কুণালকে চ্যাংদোলা করে বিধানসভার বাইরে বার করে দেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া প্রতিক্রিয়া
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিধানসভার অন্দরেই অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী তথা লিডার অফ দ্য হাউজ শুভেন্দু অধিকারী। তিনি গোটা ঘটনাটিকে ‘অসভ্যতামি’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এইরকম অসভ্যতামি বিধানসভায় আমরা আগে দেখিনি। আমরাও অতীতে বিরোধী দলে ছিলাম, এখনও আছি। আখেরুজ্জামান সাহেব এই বিধানসভার একজন বর্ষীয়ান সদস্য ও প্রাক্তন মন্ত্রী। মমতাপন্থী তৃণমূলের একজন সদস্য যেভাবে তাঁর ওপর চড়াও হতে গিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী ও লিডার অফ দ্য হাউজ হিসেবে আমি এর তীব্র নিন্দা করছি।”
অন্যদিকে, পুরো ঘটনাটি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিরোধী চিফ হুইপ আখেরুজ্জামান জানান, ৮০ জন বিধায়কের মধ্য থেকে কাকে বলতে দেওয়া হবে আর কাকে নয়, তা পুরোপুরি দলের চিফ হুইপের এক্তিয়ারভুক্ত। সবাইকে একসঙ্গে বলা সম্ভব নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।
শিল্পমন্ত্রীর দাবি ও মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত
কুণাল ঘোষকে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তপস রায়। নিজের সুদীর্ঘ পরিষদীয় জীবনে এমন ঘটনা তিনি দেখেননি উল্লেখ করে কুণালকে চলতি অধিবেশনের শেষ দিন পর্যন্ত সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেন তিনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কুণালকে অহেতুক ‘বিখ্যাত’ করার কোনও প্রয়োজন নেই। মুখ্যমন্ত্রীর এই শালীন ও সংযত সুপারিশ মেনেই শেষ পর্যন্ত অধ্যক্ষ কুণাল ঘোষকে কেবল একদিনেইর জন্য সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেন।