অনশন ভাঙবেন সোনম ওয়াংচুক? মেদান্তা হাসপাতালের আইসিইউ-তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে ‘রুদ্ধদ্বার বৈঠক’!

NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন দাবিতে অনশনরত বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক-কে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে সফদরজং হাসপাতাল থেকে তাঁকে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক তৎপরতা। মঙ্গলবার রাতে মেদান্তা হাসপাতালেই তাঁর সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং

মেদান্তা হাসপাতালে মধ্যরাতে গোপন বৈঠক

সরকারি সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কড়া নিরাপত্তায় অ্যাম্বুল্যান্সে করে সোনম ওয়াংচুককে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউ (ICU-8)-তে ভর্তি করা হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

  • বৈঠকের গোপনীয়তা: প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলা ওই বৈঠকে হাসপাতালের চিকিৎসকদিগকেও বাইরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

  • চিকিৎসা শুরু: বর্তমানে মেদান্তার ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুশীলা কাটারিয়ার তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গঠিত বিশেষ চিকিৎসক দল তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

সফদরজং হাসপাতাল থেকে স্থানান্তর ও বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি

দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতাল থেকে রিলিজ করা হয়। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছিল, রিলিজের সময় তাঁর শারীরিক প্যারামিটার বা ভাইটাল সাইন স্থিতিশীল ছিল। তবে তাঁর শরীরে প্যানসাইটোপেনিয়া-র সমস্যা রয়েছে এবং সিরাম পটাশিয়ামের মাত্রা কিছুটা কমে ৩.৪ mEq/L-এ দাঁড়িয়েছে। সফদরজং-এর সমস্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট ও নথিপত্র ইতিমধ্যেই মেদান্তার চিকিৎসক দলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

কেন এই স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত?

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দাবি নিয়ে অনির্দিষ্টকালের আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় এবং তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর করা আবেদনের ভিত্তিতে দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, পছন্দমতো হাসপাতালে নিজের চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া ভারতীয় সংবিধানের ১৯ ও ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এখন এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সোনম তাঁর অনশন প্রত্যাহার করেন কিনা, সেটাই দেখার।