সংসদে চরম নাটক! কথা বলার সুযোগ না পেয়ে সরাসরি ‘ডিল’ তত্ত্ব তুললেন ক্ষুব্ধ অখিলেশ যাদব

দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক কেন্দ্র তথা সংসদের উভয় কক্ষে সাম্প্রতিক সময়ে চলমান হাঙ্গামা ও রাজনৈতিক তরজা নতুন মোড় নিয়েছে। বুধবার লোকসভায় টানা তৃতীয় দিনের মতো চরম অশান্তি ও হট্টগোল বজায় থাকে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সমাজবাদী পার্টি (SP)-র সুপ্রিমো তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখिलेश যাদব। এদিনের অধিবেশন চলাকালীন মূল বিরোধ তৈরি হয় যখন অখिलेश যাদবকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়—বিশেষ করে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এনইইটি-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং গত ২০ জুলাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীদের জোরালো প্রতিবাদ-বিক্ষোভের ওপর হওয়া দমনপীড়নের বিষয়ে নিজের বক্তব্য রাখার কোনো সুযোগ বা অনুমতি দেওয়া হয়নি। লোকসভার স্পিকার যখন নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা কেসি ভেনুগোপাল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুকে একে একে কথা বলার অনুমতি দেন, ঠিক তখনই চরম বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান। তিনি সরাসরি স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বসেন এবং ক্ষোভের সুরে জানতে চান যে, তবে কি বর্তমান কেন্দ্র সরকার এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেপথ্যে কোনো গোপন রাজনৈতিক চুক্তি বা সমঝোতা হয়ে গেছে?

বুধবার সকালে যখন লোকসভার অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়, তখন থেকেই বিরোধী শিবিরের সংসদ সদস্যরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং বিতর্কিত এনইইটি পেপার লিক কাণ্ড নিয়ে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার জোরালো দাবিতে সংসদ চত্বর উত্তপ্ত করে তোলেন। বিরোধী সাংসদদের এই অব্যাহত স্লোগান ও শোরগোলের মুখে পড়ে কার্যবিরতি ঘোষণা করা হলেও বিরোধীরা পিছু হঠতে নারাজ ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এবং কংগ্রেস দলের নির্ধারিত কিছু সদস্যকে তাঁদের বক্তব্য পেশ করার অনুমতি দেন। স্পিকারের এই পক্ষপাতমূলক আচরণে স্পষ্টতই দৃশ্যমান ও চরম অসন্তুষ্ট হয়ে অখिलेश যাদব নিজের আসন থেকে অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে দাঁড়ান এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান। ক্ষোভ উগরে দিয়ে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের ভবিষ্যৎ এবং কোটি কোটি ছাত্র-যুবকের সঙ্গে জড়িত এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল—যেমন সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস কিংবা শাসকদল বিজেপির একচেটিয়া বিষয় নয়, বরং এটি সরাসরি দেশের সাধারণ ছাত্রসমাজ এবং উদীয়মান যুবশক্তির বেঁচে থাকার লড়াইয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

অধিবেশনকক্ষেই মেজাজ হারিয়ে অখिलेश যাদব তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “আপনি অত্যন্ত সুকৌশলে প্রথমে ওদের অর্থাৎ কংগ্রেসকে এবং তারপর বিজেপিকে কথা বলার অবাধ সুযোগ করে দিলেন, কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে এত কার্পণ্য কেন? আমাদের অপরাধ কী? আপনারা কি তবে পর্দার আড়ালে সরকারের সঙ্গে কোনো বড় রাজনৈতিক বা গোপন ডিল পাকা করে ফেলেছেন? আপনাদের কি পারস্পরিক কোনো বিশেষ সমঝোতা হয়ে গেছে?” কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নিজের অনমনীয় অবস্থান স্পষ্ট করে অখिलेश কঠোর ভাষায় चेतावनी দিয়ে বলেন যে, দেশের তরুণ প্রজন্মের যৌক্তিক দাবিদাওয়া ও তীব্র উদ্বেগগুলোকে যদি এভাবেই বারবার ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়, তবে বাধ্য হয়ে দেশের ছাত্রসমাজ ও যুবশক্তি আগামী দিনে আবারও রাজপথে নেমে এক রক্তক্ষয়ী ও বড় মাপের আন্দোলনের সূচনা করবে। উল্লেখ্য, এর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখिलेश যাদব, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস দলের আরও একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনের ঠিক সামনে হঠাৎ করে এক অভাবনীয় ও অভিনব রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন। যদিও সেই প্রতিবাদস্থলে পৌঁছানোর নেপথ্যের কাহিনী বেশ চাঞ্চল্যকর ও রোমাঞ্চকর, তবুও অখिलेश পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বাধ্য হয়েই তাঁদের এই চরম পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল কারণ সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে বিরোধী শিবিরের সামনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আর কোনো খোলা রাস্তা অবশিষ্ট রাখা হয়নি।