মাত্র ১৩ বছর বয়সে হারারেতে অবিশ্বাস্য ম্যাজিক! ভারতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেই নস্ট্যালজিক বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় প্রতিভার এক নতুন রূপকার হিসেবে আবির্ভূত হওয়া ভারতের মাত্র ১৩ বছর বয়সী উদীয়মান ও সেনসেশনাল ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে সফরের প্রাক্কালে এক আবেগঘন মন্তব্য করে গোটা ক্রিকেট মহলের নজর কেড়ে নিয়েছেন। জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে আসন্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক (T20I) সিরিজের ম্যাচগুলো খেলার জন্য যখন তিনি পুনরায় হারারেতে এসে পৌঁছলেন, তখন তাঁর কাছে এই প্রত্যাবর্তন এক অত্যন্ত বিশেষ ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। এর ঠিক চার মাস আগেই এই একই ঐতিহাসিক মাঠে আইসিসি (ICC) অনূর্ধ্ব-১৯ (U19) বিশ্বকাপের ফাইনালে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ভারত, আর সেই সোনালী স্মৃতিই এখন তরুণ তুর্কি বৈভবের মানসপটে তাজা হয়ে উঠেছে। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI)-এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে বৈভব সূর্যবংশী অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে এই মাঠে খেলার ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং তাঁর দলের সুদীর্ঘ যাত্রার কথা খোলামেলাভাবে শেয়ার করেছেন।

ভিডিওটিতে তরুণ তারকা বৈভব সূর্যবংশী গভীর আবেগ ও উৎসাহের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, “আমরা এই মুহূর্তে জিম্বাবুইয়ের রাজধানী হারারেতে অবস্থান করছি এবং এই স্টেডিয়ামটি আমার ক্রিকেট জীবনের অন্যতম সেরা এবং সবচেয়ে यादगार মাঠ। ঠিক চার মাস আগে আমরা এই একই মাঠে অত্যন্ত কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিলাম এবং শিরোপা জয় করে দেশে ফিরেছিলাম, যার কারণে এই মাঠের প্রতিটি কোণ আমার হৃদয়ের খুব কাছের।” তিনি আরও যোগ করে বলেন যে, দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিনিধিত্ব করা প্রতিটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ক্রিকেটারের আজীবন লালিত একটি বড় স্বপ্ন হয়ে থাকে, আর ঠিক এইরকমই একটি জমকালো ও ঐতিহাসিক মাঠে পুনরায় ফিরে এসে নিজের দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নেমে খেলাটা সত্যিই এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর অনুভূতি। যে ভেন্যুতে মাত্র চার মাস আগে আমরা ভারতীয় দলের হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলাম, সেখানেই আবার ব্যাট হাতে নামাটা অত্যন্ত গর্বের এবং এই সুন্দর মুহূর্তটির প্রতিটি সেকেন্ড আমরা পুরোপুরি উপভোগ করতে প্রস্তুত রয়েছি।

তরুণ এই বিস্ময় বালক আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, হারারের এই পরিচিত মাঠে পূর্বে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে এবং তাঁর সতীর্থদের বর্তমান জিম্বাবুয়ে সিরিজের পিচ ও কন্ডিশন বুঝতে দারুণভাবে সাহায্য করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে মাঠের পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি এই সিরিজে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারবেন। বৈভবের মতে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুবাদে এখানকার পিচের চরিত্র এবং আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি তাঁর খুব ভালোভাবেই চেনা হয়ে গিয়েছিল, যা আসন্ন ম্যাচে বাড়তি সুবিধা দেবে। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন যে, ম্যাচের দিন তিনি অতিরিক্ত কোনো চাপ না নিয়ে নিজের প্র্যাকটিসের ওপর ভরসা রাখবেন এবং নিজের সহজাত আক্রমণাত্মক ও স্বাভাবিক খেলাটিই খেলে যাবেন, যাতে দলের জয়ে সর্বোচ্চ অবদান রাখা সম্ভব হয়। উল্লেখ্য, এই ঐতিহাসিক মাঠে অতীতে তিনি যে দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন, তার ফল অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল এবং তিনি সেই উইনিং মোমেন্টাম বা জয়ের ছন্দকেই এই টি-টোয়েন্টি সিরিজে ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

দলের সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বৈভব ভারতীয় দলের কোচিং স্টাফের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তিনি জানান যে, দলের কোচ ও ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করেছে যাতে খেলোয়াড়দের কোনো ধরনের ঘাটতির মুখোমুখি হতে না হয়। তাঁর মতে, অনুশীলনের জন্য কোচরা তাঁর সমস্ত চাহিদা পূরণ করেছেন, যার ফলে তিনি বর্তমানে মানসিকভাবে অত্যন্ত চাঙ্গা ও আত্মবিশ্বাসী অনুভব করছেন। গত চার মাসের ক্রিকেট যাত্রায় কেরিয়ারে কিছু উত্থান-পতন আসলেও বৈভব একে জীবনের স্বাভাবিক অঙ্গ হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যর্থতা ও সফলতা ক্রিকেটের পাশাপাশি জীবনেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা নিয়ে বেশি না ভেবে কেবল সঠিক প্রসেস বা নিয়ম মেনে চলা উচিত। উল্লেখ্য, ভারতের এই জিম্বাবুয়ে সফরটি ইংল্যান্ড সফরের ঠিক চার দিন পরেই শুরু হতে চলেছে, যেখানে আগামী ২৩, ২৫ এবং ২৬ জুলাই হারারের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।