৬০ বছর পর লোধাশুলির জঙ্গলে ফিরল ‘মুকুট ফড়িং’! বিরল এই পতঙ্গের আকৃতি ও বৈশিষ্ট্য জানলে চমকে যাবেন

দীর্ঘ ৬০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! ঝাড়গ্রাম জেলার লোধাশুলির জঙ্গল থেকে খোঁজ মিলল অত্যন্ত বিরল এক পতঙ্গের— ‘হুডেড গ্রাসহপার’ (Hooded Grasshopper) বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘মুকুট ফড়িং’। গবেষকদের দীর্ঘদিনের নথি ঘেঁটে জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক দশকে এই পতঙ্গের দেখা মেলা একপ্রকার প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। জঙ্গলমহলের বুকে এই বিরল ফড়িংয়ের সন্ধান মেলায় স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত গবেষক মহল ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

কীভাবে মিলল এই ফড়িংয়ের সন্ধান?

ঝাড়গ্রামের মোহনপুর গ্রামীণ হাসপাতাল সংলগ্ন লোধাশুলির জঙ্গলে ফিল্ডওয়ার্ক ও গবেষণার কাজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক পবিত্র মাহাত। সেই সময়ই তাঁর নজর কাড়ে ব্যতিক্রমী দেখতে এই পতঙ্গ। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেটির ছবি তোলার পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহ করেন এবং তাঁর শিক্ষক তথা কেশপুর সুকুমার সেনগুপ্ত মহাবিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুমন প্রতিহারকে বিষয়টি জানান।

এরপর পুরনো নথি ও বম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির ১৯৬৫ সালের জার্নাল ঘেঁটে এর ইতিহাস উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, এর আগে বিহারের হাজারিবাগ এবং অবিভক্ত মেদিনীপুর সহ হাতে গোনা কয়েকটি অঞ্চলেই এর অস্তিত্বের কথা নথিবদ্ধ ছিল।

মুকুট ফড়িংয়ের অদ্ভুত সব বৈশিষ্ট্য:

গবেষক সুমন প্রতিহার এবং সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, এই বিরল পতঙ্গটির বেশ কিছু চোখধাঁধানো বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

  • আকৃতি ও ছদ্মবেশ: এই ফড়িংয়ের বৈজ্ঞানিক নাম টেরাটোডস মন্টিকলিস (Teratodes monticollis)। দেখতে অবিকল গাছের পাতার মতো। ফলে এরা যখন গাছের পাতায় বসে থাকে, তখন খালি চোখে তাদের চেন বা আলাদা করা প্রায় অসম্ভব।

  • খাদ্যাভ্যাস ও নাম ‘চন্দনদস্যু’: এই পতঙ্গটি মূলত গাছের কচি পাতা খেয়ে বেঁচে থাকে। এদের বিশেষ পছন্দ সেগুন গাছের কচি পাতা। এছাড়া দক্ষিণ ভারতে এরা চন্দন গাছের পাতা খেয়ে গাছ নষ্ট করে দেয়, যে কারণে অনেকে এদের ‘চন্দনদস্যু’ নামেও ডেকে থাকেন।

  • ভৌগোলিক বিস্তার: বিভিন্ন ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, এই পতঙ্গটি কেবলমাত্র ভারত এবং শ্রীলঙ্কার কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলেই পাওয়া যায়।

গবেষকদের মতে, জঙ্গলমহলের মতো জায়গায় এমন বিরল প্রজাতির পতঙ্গের উপস্থিতি সেখানকার সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যেরই প্রমাণ দেয়। কোভিডের সময়কালের মতো আবারও জঙ্গলমহলে এমন কিছু বিরল প্রাণের সন্ধান মেলায় উৎসাহিত বিজ্ঞানীরা।