দেশজুড়ে ফের সক্রিয় মৌসুমি বায়ু! দিল্লি থেকে বিহার ও কোঙ্কন উপকূলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা

সারা সপ্তাহজুড়েই দেশের অধিকাংশ এলাকায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু চরমভাবে সক্রিয় থাকবে বলে পূর্বাভাস দিল মৌসম ভবন (IMD)। উত্তর, পূর্ব ও মধ্য ভারতের ওপর সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা এবং একাধিক ঘূর্ণাবর্তের জোড়া প্রভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক বৃষ্টিপাত, বজ্রবিদ্যুৎ এবং কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার বিশেষ পূর্বাভাস:
দিল্লির আবহাওয়া: মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লিতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির জেরে তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া থেকে স্বস্তি মিলেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন রাজধানীতে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একটানা বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা অনেকটাই কমেছে, যা সোমবার সফদরজং কেন্দ্রে নেমে এসেছিল ৩১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারত: পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং পশ্চিম হিমালয় সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশে বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০-৬০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত: বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বিহারের কিছু অংশে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, অসম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জেরে স্থানীয়ভাবে জলমগ্ন ও বন্যার আশঙ্কা বাড়ছ।
মধ্য ও পশ্চিম ভারত: মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং বিদর্ভ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, কোঙ্কন, গোয়া, মধ্য মহারাষ্ট্র এবং গুজরাতেও প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি।
কেন এই বারিষের এমন তোড়জোড়?
আবহাওয়াবিদদের মতে, শ্রীল গঙ্গানগর থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত শক্তিশালী মৌসুমি অক্ষরেখা এবং পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও অসমের ওপর অবস্থানরত একাধিক ঊর্ধ্ব-বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণাবর্ত এই আবহাওয়া পরিস্থিতি তৈরি করেছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।