আইফোনের ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হচ্ছে? এই ৪টি মারাত্মক ভুল আজই বন্ধ না করলে পস্তাবেন!

নতুন আইফোন কিনেছেন মাত্র কয়েক মাস হল, কিন্তু এর মধ্যেই সেটিংস-এ গিয়ে দেখছেন ব্যাটারি হেলথ ৮৫% বা ৮৮% হয়ে গেছে? এটা কিন্তু মোটেও স্বাভাবিক নয়। অ্যাপল নিজেই তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির আসল আয়ু পুরোটাই নির্ভর করে ব্যবহারকারী কীভাবে ফোনটি ব্যবহার করছেন তার উপর। অথচ আমরা প্রতিদিন না জেনেই এমন কিছু মারাত্মক ভুল করে ফেলি, যার কারণে দুই থেকে তিন বছর চলার কথা যে ব্যাটারির, তা মাত্র ছয় মাসেই একেবারে দুর্বল ও নষ্ট হয়ে যায়। সবথেকে ভালো খবর হল, আজকের পর থেকেই যদি এই সাধারণ ভুলগুলো শুধরে নেওয়া যায়, তবে আপনার সাধের আইফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন পর্যন্ত ৯০ শতাংশের বেশি হেলথ অত্যন্ত সহজে ধরে রাখবে।

আইফোন চার্জ দেওয়ার সময় যে ৪টি ভুল ভুলেও করা উচিত নয়:

১. ব্যাটারি ০% করে তারপর ১০০% ফুল চার্জ করা: আগের দিনের পুরনো দিনের নোকিয়া বা সাধারণ বাটন ফোনের অভ্যাস এখনও অনেকে আইফোনের ক্ষেত্রে ধরে রেখেছেন। তাঁরা ভাবেন ব্যাটারি একদম শেষ বা জিরো না করলে চার্জে বসানো যাবে না। কিন্তু আইফোনের আধুনিক লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে এই বদঅভ্যাসটিই সবচেয়ে বড় শত্রু। অ্যাপলের অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়াররা সবসময় পরামর্শ দেন যে ব্যাটারিকে সব সময় ২০% থেকে ৮০%-এর সীমার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা উচিত। ফোন একদম ০% হয়ে গেলে ব্যাটারির ভেতরের সেলের উপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে এবং এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়। আবার সারারাত চার্জে বসিয়ে রেখে ১০% থেকে ১০০% করে ফেলে রাখলেও একই মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই রাতে ঘুমানোর আগে বা ৮০% চার্জ হয়ে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে চার্জার খুলে দিন।

২. চার্জে বসিয়ে গেম খেলা বা হেভি ব্যবহার করা: চার্জ দেওয়ার সময় যেকোনো স্মার্টফোন এমনিতেই স্বাভাবিকভাবে একটু গরম হয়ে থাকে। তার উপর যদি আপনি একযোগে হেভি গেম খেলেন, ফোর-কে ভিডিও এডিট করেন কিংবা দীর্ঘক্ষণ ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় রিলস দেখতে থাকেন, তবে ফোনের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত গরম হওয়া হলো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির সবচেয়ে বড় এবং নাম্বার ওয়ান শত্রু। গরম এবং চার্জিং একসাথে মিলে ব্যাটারির ভেতরের কেমিক্যাল উপাদানগুলোকে খুব দ্রুত নষ্ট করে ফেলে। তাই ফোন চার্জে বসানোর পর অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সেটিকে পুরোপুরি বিশ্রাম দিন। খুব দরকারি জরুরি কাজ থাকলে শুধুমাত্র সাধারণ কল বা মেসেজ করুন।

৩. লোকাল ও সস্তা নকল চার্জার কিংবা কেবল ব্যবহার করা: অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বা ফুটপাতে অত্যন্ত সস্তায় পাওয়া যায় বলে অনেকেই ফোনের আসল অরিজিনাল চার্জার বাদ দিয়ে লোকাল বা রেপ্লিকা চার্জার ব্যবহার করতে শুরু করেন। এই একটিমাত্র ভুলই আপনার দামি ব্যাটারির আয়ু অর্ধেক করে দেওয়ার জন্য পুরোপুরি যথেষ্ট। বাজারে চলা নকল চার্জার এবং কেবলে সঠিক ভোল্টেজ এবং নিখুঁত কারেন্ট সাপ্লাই হয় না। এর ফলে ব্যাটারি অতিরিক্ত ওভারহিট হয় এবং ভেতরের সার্কিট পার্মানেন্টলি ড্যামেজ হয়ে যায়। তাই সবসময় অ্যাপলের জেনুইন অরিজিনাল ২০ ওয়াট অ্যাডাপ্টার বা এমএফআই সার্টিফায়েড ব্র্যান্ডের ভালো চার্জার ব্যবহার করুন। সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে কয়েক হাজার টাকার ব্যাটারি একেবারেই নষ্ট করবেন না।

৪. চার্জে দিয়ে বালিশের নিচে বা গরম জায়গায় রাখা: রাতে ঘুমানোর সময় অনেকেই চার্জে বসিয়ে ফোন বালিশের নিচে, তোশকের তলায় বা কম্বলের মধ্যে রেখে দেন। এর ফলে ফোনের ভেতরের গরম হওয়া বাতাস বাইরে বের হতে পারে না। ফলে ফোন দ্রুত ওভারহিট হয়ে যায় এবং মারাত্মক বিপদের সম্ভাবনাও তৈরি হয়। একইভাবে কড়া রোদের মধ্যে, গাড়ির ড্যাশবোর্ডে বা বন্ধ কোনো ক্যাবিনেটের ভেতরে রেখে চার্জ দিলেও ঠিক একই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই সবসময় একটি খোলামেলা, ঠান্ডা ও সমতল জায়গার টেবিলের উপর ফোন রেখে চার্জ দিন, যাতে চারপাশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে।

আইফোনের ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী ও ভালো রাখার দুটি অত্যন্ত কার্যকরী বোনাস টিপস আপনার জন্য: প্রথম টিপসটি হলো ফোনের সেটিংস অপশনে গিয়ে ব্যাটারি হেলথ অ্যান্ড চার্জিং সেকশন থেকে অপ্টিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং ফিচারটি অন করে দিন। এটি চালু করলে আইফোন নিজে থেকেই আপনার প্রতিদিনের ঘুমের রুটিন বুঝে নেবে এবং রাত তিনটের সময় ৮০% চার্জ করার পর বাকি কুড়ি শতাংশ আপনার ঘুম থেকে ওঠার ঠিক আধ ঘণ্টা আগে সম্পূর্ণ করবে। দ্বিতীয় বোনাস টিপসটি হলো মাসে অন্তত একবার ব্যাটারি ক্যালিব্রেসেশনের জন্য ফোনটি সম্পূর্ণ জিরো পার্সেন্ট থেকে একশো পার্সেন্ট ফুল চার্জ ও ডিসচার্জ করুন। তবে এই কাজটি নিয়মিত বা প্রতিদিন করার কোনো প্রয়োজন নেই। আইফোন এমনিতেই একটি অত্যন্ত দামি ও প্রিমিয়াম ডিভাইস। একটু সচেতনতা ও সঠিক নিয়ম মেনে চললে এর ব্যাটারি সহজেই দীর্ঘ দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত নতুনের মতো চমৎকার পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম হবে। আজ থেকেই এই ভুলগুলো বাদ দিন।