৭৫-এও থামলেন না শাবানা! যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভে যোগ দিয়ে হঠাৎ অসুস্থ কিংবদন্তি অভিনেত্রী

দিল্লির যন্তর মন্তরে সোমবার শিক্ষা সংস্কার ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে আয়োজিত ছাত্র আন্দোলনে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন প্রবীণ এবং বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি। ৭৫ বছর বয়সেও বার্ধক্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরাসরি বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের পাশে এসে দাঁড়ান তিনি। তবে এই কর্মসূচি চলাকালীন আচমকাই অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন অভিনেত্রী। হঠাৎ মাথা ঘোরার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দেওয়ায় উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তৎপরতা দেখিয়ে তাঁকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান এবং জরুরি বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন।

সমাজমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তাল ভিড়ের মধ্য থেকে শাবানাকে ধরাধরি করে একটি নিরাপত্তাকর্মীদের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে তাঁকে একটি চেয়ারে বসিয়ে জল দেওয়া হয় এবং স্বেচ্ছাসেবকেরা হাতপাখা দিয়ে হাওয়া দিয়ে তাঁকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিছু সময় একটানা বিশ্রামের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও স্বাভাবিক হয় বলে আন্দোলনস্থলের দায়িত্বে থাকা সূত্রে জানা গিয়েছে।

অসুস্থ হয়ে পড়ার ঠিক আগেই এই আন্দোলনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নিজের সরকারি সমাজমাধ্যমের পেজে শেয়ার করে নিয়েছিলেন শাবানা। একটি নজরকাড়া ছবিতে তাঁকে বিশিষ্ট অভিনেতা প্রকাশ রাজের সঙ্গে একটি ট্রাকে চড়ে বিক্ষোভ মিছিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে দেখা যায়। সেই পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে সরকার শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসতে সম্মত হওয়ায় তিনি যথেষ্ট আশাবাদী। পাশাপাশি তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত এই আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ।

আরও একটি পৃথক ভিডিওতে দেখা যায়, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের আন্তরিক সাহায্যে ব্যারিকেড টপকে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন শাবানা আজমি। সেখানে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি এবং তাঁদের চোখেমুখে ফুটিয়ে ওঠা উদ্দীপনা তাঁকে এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাহস জুগিয়েছে। পরে সেই ভিডিওর ক্যাপশনে এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেশের প্রত্যেকটি মানুষকে সসম্মানে কুর্নিশ ও শুভেচ্ছা জানান অভিনেত্রী।

দেশের অন্যতম প্রধান সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারেও এই আন্দোলনের মূল চরিত্র ও রূপরেখা নিয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দেন শাবানা আজমি। তাঁর জোরালো কথায়, এই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য কখনওই জনজীবনে হিংসা ছড়ানো নয়। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানানো প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার। মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার আদর্শেই তাঁদের নিখাদ বিশ্বাস এবং সেই পথেই তাঁরা নিজেদের না মেলা দাবিগুলো তুলে ধরছেন।

এই ধরনের বড় মাপের ছাত্র আন্দোলনে বলিউড তারকাদের তুলনামূলক কম উপস্থিতি নিয়ে যখন চারদিকে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তখন সেই বিতর্কে একেবারেই প্রবেশ করতে চাননি শাবানা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার বদলে কোন সেলিব্রিটি এলেন আর কে এলেন না— এই ধরনের অর্থহীন সেলিব্রিটি প্রশ্নে আটকে গেলে আসল জনস্বার্থের বিষয়টি পুরোপুরি আড়ালে চলে যায়। বরং এই মুহূর্তে যাঁরা শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় নেমেছেন, তাঁদের পাশে নিঃশর্তভাবে দাঁড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ার এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষ এবং তাঁর অগণিত অনুরাগীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হলেও, ৭৫ বছর বয়সেও শাবানা আজমির এই আপসহীন সক্রিয় উপস্থিতি এবং যেকোনো ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের প্রতি তাঁর অটল সমর্থন দেশজুড়ে নতুন করে গভীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।