রাজ্যে ৫০টি নতুন এসি বাস ও ওয়াটার মেট্রোর যুগান্তকারী সূচনা! পরিবহন ব্যবস্থায় বিরাট বিপ্লব আনলেন মুখ্যমন্ত্রী!

রাজ্যের যাতায়াত ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের তীব্র সংকট দূর করতে এবং সাধারণ যাত্রী সাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে এক অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে একাধিক যুগান্তকারী জনমুখী প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে রাজ্যে একসঙ্গে ৫০টি অত্যাধুনিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বা এসি (AC) বাস পরিষেবা চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন কসবায় আয়োজিত এই বিশেষ পরিবহন অনুষ্ঠান থেকে শুধুমাত্র বাসের সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, বরং গোটা পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং বাসে যাতায়াতকারী নারী যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষার ওপর অত্যন্ত বিশেষ জোর দেওয়ার কথা জোরালোভাবে ঘোষণা করেছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, রাজ্যের বেহাল পরিবহন ব্যবস্থাকে আবার সঠিক গতিশীল পথে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রের সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা অত্যন্ত অপরিহার্য। তাঁর সুচিন্তিত মতে, সঠিক কর্মপরিকল্পনা এবং উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে একমাত্র এই পরিবহন দপ্তরই ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যতম প্রধান রাজস্ব বৃদ্ধির মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। তবে বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন যে, পূর্ববর্তী শাসক দল রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনের ঘাড়ে প্রায় আট লক্ষ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক বোঝা ও ঋণের পাহাড় চাপিয়ে রেখে গেছে। তা সত্ত্বেও সমস্ত প্রতিকূলতা ও আর্থিক সংকটকে সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উন্নয়নের চাকা সচল রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
পরিবেশ দূষণ রোধ করতে এবং ক্রমবর্ধমান জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে ডিজেলচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সিএনজি (CNG) এবং ইভি বা ইলেকট্রিক ভেহিকলের (EV) ব্যবহার বহুগুণ বৃদ্ধিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বর্তমান সরকার। সেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতেই আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে আরও অসংখ্য বিদ্যুৎচালিত আধুনিক বাস নামানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বৈদ্যুতিক বাসের নির্বিঘ্ন চলাচলের কথা মাথায় রেখে গোটা রাজ্যজুড়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নতুন ইভি চার্জিং স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে বলেও এদিন বিশেষভাবে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তাঁদের দৈনন্দিন যাতায়াত আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নিরাপদ করতে সরকারি বাসে এবার থেকে সুনির্দিষ্টভাবে ‘গোলাপি আসন’ বা পিঙ্ক সিটের যুগান্তকারী ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। শুধু স্থলপথের সড়ক পরিবহনই নয়, বাংলার ঐতিহ্যশালী জলপথ পরিবহণকেও ঢেলে সাজানোর দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এদিনের সবচেয়ে বড় ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের ১৭তম রাজ্য হিসেবে এবার আধুনিক ‘ওয়াটার মেট্রো’ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ, যা রাজ্যের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক সম্পূর্ণ নতুন ও সোনালী অধ্যায় সূচিত করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।