মহিলাদের জন্য ঐতিহাসিক পিঙ্ক কার্ডের বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! এসি বাস উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে মিলল বড় স্বস্তি!

রাজ্যের সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ এবং যুগোপযোগী করে তুলতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর আগেই সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধার কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। তবে মঙ্গলবার কসবায় এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাজ্যে একসঙ্গে নতুন ৫০টি এসি বাস পরিষেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে পিঙ্ক কার্ড বা গোলাপি কার্ড ব্যবস্থার রূপরেখা আরও স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি বিভিন্ন পেশাজীবী ও কর্মরতা মহিলাদের পক্ষ থেকে সরকারি বাসের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের এই সুবিধা নিয়ে কিছু মতামত ও আপত্তি উঠে এসেছিল। সচেতন ও আত্মনির্ভরশীল বহু চাকরিজীবী নারীই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই মর্মে আবেদন জানিয়েছিলেন যে, তাঁদের মতো স্বাবলম্বী ও উপার্জনক্ষম মহিলাদের বাদ দিয়ে এই বিশেষ পরিষেবাটি মূলত সমাজের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এবং প্রান্তিক মহিলাদের জন্য সুনিশ্চিত করা হোক। সাধারণ নারীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত মতামত ও দাবির প্রতি পূর্ণ সম্মান জানিয়েই এদিন পিঙ্ক কার্ড সংক্রান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সমাজের যে সমস্ত মহিলা বা ছাত্রীরা সরকারি বাসে ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ বা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের এই সুবিধা সম্পূর্ণ সচ্ছলতার সঙ্গে গ্রহণ করতে চান, তাঁদের জন্য দ্রুত একটি বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’ বা গোলাপি কার্ড চালু করা হচ্ছে। এই কার্ডটি প্রদর্শন করেই তাঁরা রাজ্যজুড়ে সরকারি বাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নিজেদের যাতায়াত সুনিশ্চিত করতে পারবেন। অন্যদিকে, যে সমস্ত মহিলারা স্বাবলম্বী, কর্পোরেট সেক্টরে বা অন্য কোনো সংস্থায় ভালো বেতনে চাকরি করেন এবং যাঁরা সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই নিয়মিত বাসভাড়া মিটিয়ে যাতায়াত করতে পছন্দ করেন, তাঁদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রতিও পূর্ণ সম্মান জানানো হয়েছে। সেই সমস্ত সচ্ছল ও উপার্জনশীল নারীদের জন্য ভাড়ায় টিকিট কেটে যাতায়াত করার সমান বিকল্প ব্যবস্থাও বহাল রাখা হচ্ছে। কোনো অবস্থাতেই যেন কোনো ধরনের জোর বা চাপ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই বিশাল পরিবহন প্রকল্পটিকে দীর্ঘস্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা করার জন্য রাজ্য বাজেটে বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে বলে এদিন নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্ট পরিবহণ দফতরকে নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছেন, “আমি পরিষ্কার ভাষায় পরিবহণ দফতরকে বলে দিয়েছি, অতি দ্রুত একটি পিঙ্ক কার্ডের ব্যবস্থা করুন। যাঁরা জিরো ভ্যালু টিকিট বা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করতে চান, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে পিঙ্ক কার্ড ইস্যু করে দিন। আর যাঁরা নিজেদের পকেট থেকে স্বাচ্ছন্দে টিকিট কাটতে চান—যাঁরা মনে করেন আমরা ভালো উপার্জন করি, তাঁরা কেন সরকারের ফ্রি সুবিধার ওপর ভরসা করব—তাঁদের সেই স্বাধীন ইচ্ছাকেও আমাদের সম্মান জানাতে হবে। তাই সেই সমস্ত কর্মরতা নারীদের জন্য ভাড়ার বিকল্প ব্যবস্থাও খোলা রাখতে হবে।” এই পুরো পরিষেবাটি বাস্তবায়িত করতে এবং নিগমগুলির আর্থিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে রাজ্য বাজেটে অতিরিক্ত ৪০০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সংস্থান রাখা হয়েছে, যা আগামী দিনে বাংলার গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।