সামাজিক নিরাপত্তায় বড় ধাক্কা! ১ অগাস্ট থেকেই কার্যকর হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর বহুল প্রতীক্ষিত নতুন সরকারি নির্দেশিকা!

রাজ্যের সাধারণ মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়কে আরও সুদৃঢ় করতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এক অত্যন্ত যুগান্তকারী ও জনমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। চলতি বছরের রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনেই প্রবীণ নাগরিক, বিধবা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা তথা সামাজিক সুরক্ষা ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষিত প্রতিশ্রুতি ও সরকারি নির্দেশিকা মেনেই এবার থেকে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বয়স্ক নাগরিক ও বিধবা মহিলারা আরও বর্ধিত আর্থিক সহায়তা লাভ করতে চলেছেন। সরকারি সূত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগামী মাস থেকেই উপভোক্তাদের হাতে সরাসরি পৌঁছাবে এই অতিরিক্ত অর্থ, যা রাজ্যের সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক জীবনে এক বিরাট স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই অত্যন্ত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত এবং এর সঙ্গে যুক্ত সুনির্দিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ভেরিফায়েড সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করে রাজ্যবাসীকে বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই।
কত টাকা করে বৃদ্ধি পেল এই আর্থিক সহায়তা? রাজ্য সরকারের মহিলা ও শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ দফতরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত নির্দেশিকায় পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে যে, পূর্বে এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির অধীনে উপভোক্তারা প্রতি মাসে মাত্র ১,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেতেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী সেই ভাতার পরিমাণ সোজা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে এখন থেকে ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বার্ধক্য পেনশন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বয়স্ক নাগরিকরা প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে অনুদান পাবেন। ঠিক একই নিয়মে, এই বর্ধিত আর্থিক সহায়তা সমানভাবে কার্যকর করা হয়েছে ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বিধবা পেনশন প্রকল্প এবং ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় প্রতিবন্ধী পেনশন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও, যার ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ অসহায় ও প্রান্তিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
পুরো আর্থিক লেনদেন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে যে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা ডিবিটি (DBT) মোডের মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তাদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। আগামী ১ অগাস্ট ২০২৬ থেকেই এই বর্ধিত ভাতার নতুন হার আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হতে চলেছে এবং সমস্ত যোগ্য উপভোক্তারা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই তাঁদের নিজ নিজ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই বাড়তি ১৫০০ টাকার কিস্তি সরাসরি তুলতে পারবেন। সরকারের এই সময়োপযোগী ও সুচিন্তিত পদক্ষেপে রাজ্যের প্রান্তিক মানুষরা উপকৃত হবেন।
এই মানবিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত জোরালোভাবে জানিয়েছেন যে, রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক, বিধবা মহিলা এবং দিব্যাঙ্গ ভাই-বোনেরা যাতে সমাজের বুকে আরও বেশি আত্মমর্যাদা, আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের সঙ্গে বেঁচে থাকতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই সরকার এই সংবেদনশীল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষরা উপকৃত হবেন, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যের সামাজিক পরিকাঠামো আরও অনেক বেশি মজবুত ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে বলেই আশা প্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল।