বিশ্বজুড়ে বাড়ছে দেশীয় অস্ত্রের তেজ! ভারতের ‘অস্ত্র’ মিসাইল কিনতে লাইনে দাঁড়িয়ে ৬টি শক্তিশালী দেশ!

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভারতের গর্বের আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ‘অস্ত্র’ (Astra) মিসাইলের সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে আরও এক নতুন পালক। পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সংঘাতে নিজের পরীক্ষিত ও ধ্বংসাত্মক কার্যকারিতা প্রমাণ করার পর এবার বিশ্বমঞ্চে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এই আধুনিক সমরাস্ত্রটি। সাম্প্রতিক প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্মেনিয়া এবং সৌদি আরব সহ বিশ্বের অন্তত ছয়টি শক্তিশালী দেশ ভারতের এই অত্যাধুনিক ‘অস্ত্র’ বিভিআর মিসাইল ক্রয়ের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ভারতের সঙ্গে জোরকদমে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের সময় এই সমরাস্ত্র সংক্রান্ত একটি নীতিগত সমঝোতা স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতীয় প্রযুক্তির চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ‘অস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক মাইলফলক স্থাপন করতে চলেছে। বিগত অর্থবছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির পরিমাণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকার আকাশছোঁয়া অঙ্কে পৌঁছেছে। জানা গিয়েছে, আর্মেনিয়া বর্তমানে এই মিসাইল সংগ্রহের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এর আগে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সুপ্রসিদ্ধ সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30MKI) যুদ্ধবিমান থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই অস্ত্রগুলি অত্যন্ত সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। ফলস্বরূপ, প্রতিবেশী শত্রু দেশগুলির অপপ্রচার এবং মনগড়া বয়ান সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে বিশ্বজুড়ে ভারতীয় প্রযুক্তির অপ্রতিদ্বন্দ্বী শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়েছে।

বর্তমানে আর্মেনিয়া তাদের নিজস্ব বিমান বহরের শক্তিশালী সু-৩০এসএম (Su-30SM) যুদ্ধবিমানের সঙ্গে ভারতের এই ‘অস্ত্র বিভিআর’ মিসাইল দ্রুত সংযুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। উল্লেখ্য, আর্মেনিয়া ইতিমধ্যেই আকাশ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম, পিনাকা রকেট লঞ্চার এবং স্বাতী রাডারের মতো দেশীয় সমরাস্ত্র কিনে ভারতের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা ক্রেতা রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, রয়্যাল সৌদি এয়ার ফোর্সের বহরে থাকা বিশ্বের অন্যতম সেরা মার্কিন এফ-১৫এস এবং ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলিতেও এই দেশীয় ‘অস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার সম্ভাব্যতা নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা চলছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের সমকক্ষ পিএল-১৫ বিভিআর মিসাইলের তুলনায় ভারতের তৈরি ‘অস্ত্র’-এর বিধ্বংসী ক্ষমতা ও নিখুঁত নির্ভুলতা কোনো অংশে কম তো নয়ই, বরং এটি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক সমরাস্ত্রের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ী।

ডিআরডিও (DRDO) এবং ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (BDL)-এর যৌথ বিজ্ঞান সাধনায় তৈরি এই ‘অস্ত্র এমকে-১’ ক্ষেপণাস্ত্রটির সর্বোচ্চ গতি ম্যাক ৪.৫ এবং এর সুনির্দিষ্ট পাল্লা ৮০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। শুধু তাই নয়, এর থেকেও অনেক বেশি শক্তিশালী ‘এমকে-২’ সংস্করণের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে যার পাল্লা ২০০ থেকে ২৪০ কিলোমিটার। এমনকি ভবিষ্যতে ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লা নিশ্চিত করতে র‍্যামজেট ইঞ্জিন-চালিত ‘এমকে-৩’ সংস্করণের গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। দেশি-বিদেশি বাজারে এই বিপুল ও নজিরবিহীন চাহিদার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার এখন থেকে বেসরকারি খাতের সংস্থগুলিকেও এই মিসাইল উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করার সুদূরপ্রসারী ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।