‘মাইক বন্ধ করে মুখ দাবানোর চেষ্টা!’ মোদী সরকারকে তুলোধোনা মল্লিকার্জুন খারগের!

মঙ্গলবার বর্ষাকালীন অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে যন্তরমন্তরে পরীক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নৃশংস পুলিশি লাঠিচার্জ এবং লাগাতার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জেরে উত্তাল হয়ে উঠল সংসদ ভবন। বিরোধীদের তীব্র হট্টগোল ও প্রতিবাদের জেরে লোকসভা ও রাজ্যসভার উভয় কক্ষের কার্যক্রম দুপুর দুইটা পর্যন্ত মুলতবি করতে বাধ্য হন স্পিকার। অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী সাংসদরা প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে অবিলম্বে আলোচনার দাবিতে ওয়েলে নেমে তীব্র স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই অশান্ত হয়ে ওঠে যে দুই কক্ষেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পারদ চড়ে যায়। কংগ্রেসের জাতীয় সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খারগে অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁকে বলতে দেওয়া হয়নি। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের দেশে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী যখন প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে সোচ্চার হচ্ছিল, তখন এই সরকার তাদের ওপর বর্বরোচিত লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। আমরা সংসদেই এই অন্যায় ও নিপীড়ন নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু যেই মুহূর্তে আমরা মুখ খুললাম, আমাদের মাইক কেটে দেওয়া হলো। এটাই কি তবে তথাকথিত গণতন্ত্র?”
সংসদের অন্দরে এই উত্তাপের মধ্যেই সুর চড়ান লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও। তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, দেশের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ এবং ভেঙে পড়া পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কেন সংসদে আলোচনা করা হবে না? প্রশ্ন তোলার অপরাধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা করে রাহুল বলেন, “পরীক্ষা ব্যবস্থা আজ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে অথচ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পূর্ণ নীরব। আরএসএস দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গ্রাস করে ফেলেছে। তাই নৈতিক দায় নিয়ে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত।” অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও সরকারের এই দমনপীড়ন নীতির তীব্র সমালোচনা করে একে অগণতান্ত্রিক ও লজ্জাজনক বলে আখ্যা দেন।
কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও এই ইস্যুতে কেন্দ্র সরকারকে একহাত নিয়ে বলেন যে, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া সত্ত্বেও সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ করছে না। দেশের তরুণ সমাজ আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গরিব বাবা-মা লোন নিয়ে সন্তানদের পড়ান, কিন্তু নিয়োগপত্র পাওয়ার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। যুবকদের এই জ্বলন্ত সমস্যাগুলো নিয়ে আমরা সংসদে আলোচনা করতে চাইলে আমাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। শিশুদের এই আর্তনাদ সরকারের কানে তোলা উচিত এবং অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা বাধ্যতামূলক।” সবমিলিয়ে, সংসদের অন্দরে এবং বাইরে বিরোধী জোটের এই সমন্বিত আক্রমণ মোদী সরকারের ওপর চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।