প্রশ্নপত্র ফাঁসে মৃতু্যর চেয়েও কঠিন শাস্তি! বিহারে গুন্ডা আইন আসতেই থরহরি কম্পমান অপরাধীরা!

প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যখন কঠোর পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে, ঠিক তখনই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল বিহার সরকার। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের শেকড় উপড়ে ফেলতে এবার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কুখ্যাত ‘গুন্ডা আইন’ প্রয়োগ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নীতীশ প্রশাসন। সোমবার উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বিহার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৪’-এর সংশোধিত ও পরিমার্জিত খসড়া বিলটিতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন এই কঠোর বিধিমালার অধীনে শুধুমাত্র প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াই নয়, বরং সমাজমাধ্যমে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার বা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছড়ানোর মতো অপরাধের জন্যও ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত জেলের সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।
নতুন এই সংশোধিত বিধিমালার ফলে অপরাধ জগতের ভিত নড়ে গিয়েছে। ১৯৮১ সালের পুরোনো বিহার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আইন পুরোপুরি বাতিল করে ২০২৪ সালের ১৪ই মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনের পরিধি আরও ব্যাপক করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, গুন্ডা আইন সাধারণত অভ্যাসগত অপরাধী এবং সুসংগঠিত মাফিয়া চক্র দমনের জন্যই ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই আইনের আওতায় রাজ্য প্রশাসন যে কোনো অভিযুক্তের প্রতিটি গতিবিধির ওপর কড়া নজরদারি চালাতে পারে, প্রয়োজনে এলাকা থেকে নির্বাসনের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে এবং কঠোরতম প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে সম্পূর্ণ আইনি অধিকার রাখে। যেহেতু বর্তমান সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে আর সাধারণ অপরাধ হিসেবে দেখা হয় না, বরং এটিকে একটি সুসংগঠিত অপরাধ চক্র বলে গণ্য করা হয়, তাই আইপিসি বা বিএনএস ধারার পাশাপাশি এই বিশেষ গুন্ডা আইনও সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের আইন ও অন্যান্য রাজ্যের কঠোর বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বিহার এই পদক্ষেপ করেছে। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার ইউপিএসসি, এনটিএ, এসএসসি এবং আইবিপিএস-এর মতো সর্বভারতীয় পরীক্ষাগুলির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘পাবলিক পরীক্ষা (সৎ উপায় প্রতিরোধ) আইন, ২০২৪’ প্রণয়ন করেছিল। এই কেন্দ্রীয় আইনেও প্রশ্নপত্র ক্রয়-বিক্রয়, সলভার গ্যাং পরিচালনা এবং কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের মতো অপরাধের জন্য ৩ থেকে ৫ বছর এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার কঠোর বিধান রয়েছে। বর্তমানে রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, গুজরাট এবং উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যগুলিতেও প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো কঠোরতম আইন বলবৎ রয়েছে। তবে কেবল কড়া আইন প্রণয়ন করাই যথেষ্ট নয়; বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের মামলাগুলির দ্রুত তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ।