আইআইটি মাদ্রাজ গেট ২০২৭-এর নির্ঘণ্ট প্রকাশ করল! কবে থেকে শুরু আবেদন? জানুন সম্পূর্ণ বিস্তারিত!

গ্র্যাজুয়েট অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট ইন ইঞ্জিনিয়ারিং বা গেট ২০২৭-এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন লক্ষ লক্ষ উচ্চশিক্ষিত ও প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আপডেট প্রকাশ করা হয়েছে। চলতি বছর ঐতিহ্যবাহী ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা আইআইটি মাদ্রাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে গেট ২০২৭ পরীক্ষাটি পরিচালনা করার দায়িত্ব হাতে নিয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে এই মেগা পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট সময়সূচী ও নির্দেশিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকাশিত হওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ তারিখ থেকে এই সর্বভারতীয় পরীক্ষার অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে। যে সমস্ত উৎসাহী ও যোগ্য প্রার্থীরা এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে চান, তাঁরা আগামী ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখের মধ্যে কোনো ধরনের অতিরিক্ত জরিমানা বা বিলম্ব ফি প্রদান ছাড়াই নিজেদের আবেদনপত্র সফলভাবে জমা দিতে পারবেন। তবে যাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে ব্যর্থ হবেন, তাঁরা নামমাত্র বিলম্ব ফি প্রদান করে আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

পরীক্ষার সার্বিক সময়সূচী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ১৪ থেকে ২১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখের মধ্যে নিবন্ধিত প্রার্থীরা তাঁদের ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য উইন্ডো ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এর পর আগামী বছরের শুরুতে অর্থাৎ ৪ জানুয়ারি, ২০২৭ তারিখে পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট পরীক্ষার শহর বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। সমস্ত জল্পনা ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী বছরের ৬, ৭, ১৩, ১৪, ২০ এবং ২১ ফেব্রুয়ারি—এই সুনির্দিষ্ট দিনগুলিতে গেট ২০২৭-এর মূল পরীক্ষাগুলি অনুষ্ঠিত হবে। আর সমস্ত প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ১৯ মার্চ, ২০২৭ তারিখে এই সর্বভারতীয় পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হবে বলে আইআইটি মাদ্রাজ সূত্রে জানানো হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়সের মাপকাঠি বিবেচনা করে বলা যায় যে, শুধুমাত্র চতুর্থ বা ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীরাই নন, বরং তৃতীয় বর্ষের স্নাতক পড়ুয়ারাও গেট ২০২৭-এর জন্য সফলভাবে আবেদন করার যোগ্যতা অর্জন করেন। ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রযুক্তি, স্থাপত্য ছাড়াও বিজ্ঞান, বাণিজ্য, কলা এবং মানবিক বিভাগের স্নাতক ডিগ্রিধারীরাও এই মর্যাদাপূর্ণ পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাচ্ছেন। পরীক্ষার ফি প্রসঙ্গে জানা গেছে যে, সাধারণ এবং ওবিসি ক্যাটাগরির প্রার্থীদের ২১শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২০০০ টাকা এবং বিলম্ব ফি সহ ২৫০০ টাকা প্রদান করতে হবে। অন্যদিকে, এসসি, এসটি এবং পিডব্লিউডি ক্যাটাগরির প্রার্থীরা ১০০০ টাকা এবং বিলম্ব ফি সহ ১৫০০ টাকা জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী কেরিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে গেট স্কোরের গুরুত্ব অপরিসীম। এই পরীক্ষার মাধ্যমে সফল প্রার্থীরা দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন আইআইটি, এনআইটি, আইআইআইটি এবং মর্যাদাপূর্ণ আইআইএসসি ব্যাঙ্গালোরে এমটেক, এমএস কিংবা পিএইচডি প্রোগ্রামে সরাসরি ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। সিসিএমটি কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে আসন বরাদ্দ করা হয়। তাছাড়া, এই স্কোরের বৈধতা ভর্তির ক্ষেত্রে টানা তিন বছর পর্যন্ত বহাল থাকে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত বা পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং (PSU) সংস্থাগুলিতে চাকরির ক্ষেত্রে এই স্কোরের বৈধতা ফলাফল প্রকাশের তারিখ থেকে এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।

দেশের নামী-দামি এবং মহারত্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে সরাসরি কর্মসংস্থানের জন্য গেট স্কোর একটি বিরাট চাবিকাঠি। ওএনজিসি (ONGC), ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL), হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL), কোল ইন্ডিয়া (CIL) এবং গেইল (GAIL)-এর মতো জায়েন্ট সংস্থাগুলিতে ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে গেট স্কোর বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও পাওয়ারগ্রিড, সেল, ভেল, এনএইচএআই এবং ডিআরডিও বা ইসরোর মতো স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানেও এর ব্যাপক কদর রয়েছে। এই সমস্ত পিএসইউ সংস্থায় প্রার্থীরা মূলত গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার ট্রেইনি অথবা সরাসরি অফিসার পদে নিযুক্ত হন, যা তরুণ প্রজন্মের কেরিয়ার গঠনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।