নিউটাউনে লিভ-ইন জুটির মর্মান্তিক পরিণতি! ঘরের দরজা ভাঙতেই যুবতির ঝুলন্ত দেহ ও রক্তাক্ত সঙ্গীকে দেখে শিউরে উঠল পুলিশ!

খাস কলকাতার উপনগরী নিউটাউনে এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। নিউটাউনের চণ্ডীবেড়িয়া এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে ২৫ বছরের এক তরুণীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম তৃষা সাহা এবং তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে। ওই ফ্ল্যাট থেকেই মৃতার লিভ-ইন পার্টনার সৌভিক রায়কে চরম রক্তাক্ত এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর হাতের শিরা কাটা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ভয়াবহ ও রোমহর্ষক ঘটনায় রবিবার রাতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় আবাসিকদের মধ্যে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মৃত তৃষা সাহা ও সৌভিক রায় গত চার মাস ধরে ওই ফ্ল্যাটে একসঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতেন। বাড়ির মালিক সুদাম মাইতি জানিয়েছেন, মাত্র চার-পাঁচ মাস আগে তাঁরা এই ফ্ল্যাটটি ভাড়ায় নিয়েছিলেন। রবিবার রাতে ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না মেলায় এবং দরজা বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। এরপর প্রতিবেশীদের সহায়তায় থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতর থেকে তৃষার ঝুলন্ত দেহ এবং সৌভিককে গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সৌভিক রায়।

প্রতিবেশী সোনালি দাস জানিয়েছেন, তাঁরা ঘটনার সময় বিশেষ কিছু টের পাননি। পুলিশ আসার পরেই তাঁরা জানতে পারেন যে ফ্ল্যাটের ভেতরে এমন একটি মর্মান্তিক কাণ্ড ঘটে গেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক বা পারস্পরিক টানাপোড়েনের জেরে এই চরম পথ বেছে নিতে পারেন তাঁরা। তবে এটি নিছকই আত্মহত্যা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা খুনের চক্রান্ত রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে নিউটাউন থানা। সৌভিকের জ্ঞান ফিরলে এবং পুলিশি জেরা ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই এই রহস্যমৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।