একুশে জুলাইয়ে বড় চমক! কালীঘাটে নো-ফুড, ঋতব্রতদের ডিম-ভাতে মাত, কী খাওয়াচ্ছে কংগ্রেস?

গত ১৫ বছরের চেনা ছবি এবার উধাও। ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালনে এবার বঙ্গ রাজনীতিতে ত্রিমুখী লড়াই। তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে দুই টুকরো—একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী। এর পাশাপাশি আসরে রয়েছে কংগ্রেসও। সোমবার কলকাতার তিন প্রান্তে এই তিন শিবিরের সমাবেশ ঘিরে পারদ চড়লেও, রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছে ‘মেনু’ নিয়ে! কার সমাবেশে কী খাবেন কর্মীরা?

আগে একুশে জুলাই মানেই ছিল তৃণমূলের বিখ্যাত ‘ডিম-ভাত’। দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মীদের জন্য শহরের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা-খাওয়ার ঢালাও বন্দোবস্ত থাকত। কিন্তু এবার রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সমাবেশের অনুমতি পাওয়া কালীঘাট তৃণমূল সাফ জানিয়েছে, এ বছর কর্মীদের জন্য কোনও খাবারের ব্যবস্থা থাকছে না। কারণ হিসেবে আড়াই হাজার জমায়েতের বাধ্যবাধকতা ও প্রশাসনের অসহযোগিতাকে দুষছেন কালীঘাট তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “একুশে জুলাই মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীরা ব্যাপক উৎসাহী, তাঁরা নিজেদের উদ্যোগেই ঠিক পৌঁছে যাবেন।” রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি জানান, তাঁদের দমানোর চেষ্টা চলছে, থাকার জায়গাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, আসল চমক দিচ্ছে ঋতব্রত শিবির। কর্মীদের মন জিততে পুরনো সেই ‘ডিম-ভাত’-এর ঐতিহ্য সযত্নে ধরে রাখছে তারা। শুধু তাই নয়, ডিম-ভাতের পাশাপাশি মেনুতে থাকছে সয়াবিনের তরকারিও।

পিছিয়ে নেই কংগ্রেসও। ধর্মশালা ও গেস্ট হাউসগুলোতে (যেমন হরিয়ানা ভবন, মাহেশ্বরী ভবন) কর্মীদের জন্য থাকছে ভাত, ডাল ও পাঁচমিশেলি তরকারির আড়ম্বরপূর্ণ নিরামিষ আয়োজন। তবে সল্টলেক স্টেডিয়াম ও কলকাতা স্টেশনে আগত হাজার হাজার কর্মীদের জন্য ডিম, মাছ এবং মঙ্গলবার সকালে ব্রেকফাস্টে পাউরুটি-টোস্টের এলাহি ব্যবস্থা রাখছে হাত শিবির। সব মিলিয়ে, একুশের মঞ্চের পাশাপাশি এবার লড়াই জমছে পাতেও!