বড় ধাক্কা কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের! অষ্টম বেতন কমিশনের মেয়াদ শেষের পথে, পুরনো পেনশন নিয়ে অনিশ্চয়তা তুঙ্গে

অষ্টম বেতন কমিশন তাদের নির্ধারিত ১৮ মাসের মেয়াদের অর্ধেক পথ সফলভাবে অতিক্রম করেছে। ইতিমধ্যে কলকাতা ও ভুবনেশ্বরে গুরুত্বপূর্ণ সফর সম্পন্ন করার পর কমিশন এখন তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করার চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে পেনশন সংক্রান্ত নীতিমালা এবং পুরনো পেনশন ব্যবস্থা (OPS) পুনর্বহালের দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর দীর্ঘ টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত মূল গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) এবং ইউনিফাইড পেনশন স্কিম (UPS)-এর আওতাধীন সুবিধাগুলো পর্যালোচনার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর মূল দাবি ছিল পুরনো পেনশন স্কিম (OPS) আবার চালু করা। সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও ওপিএস পুনর্বহালের কোনো স্পষ্ট উল্লেখ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মী প্রতিনিধিরা। ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল–জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি’ (NC-JCM)-এর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান এনপিএস এবং ইউপিএস ব্যবস্থা বাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কর্মীদের ভবিষ্যতে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে ১ জানুয়ারি ২০০৪ সালের পর চাকরিতে যোগদানকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই বৈষম্যমূলক নীতি মানা হবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর এপ্রিলে ইউপিএস চালু হলেও প্রায় ২৬ লাখ এনপিএস গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ১.২২ লাখ কর্মী এই স্কিম বেছে নিয়েছেন, যা এর প্রতি অত্যন্ত সীমিত জনসমর্থন এবং আস্থার অভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে। তা সত্ত্বেও সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, অষ্টম বেতন কমিশনের এখতিয়ার কেবল বিদ্যমান এনপিএস ও ইউপিএস ব্যবস্থার সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনা করা এবং ‘নন-কন্ট্রিবিউটরি’ পেনশন কাঠামোর আর্থিক বোঝা খতিয়ে দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এমতাবস্থায়, দেশের কোটি কোটি সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের জীবন ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য সরকার শেষ পর্যন্ত কী সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেয় এবং কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কোন সুষম সমাধান তুলে ধরে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।