যন্তরমন্তরে ধুন্ধুমার! শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবারও জারি সিজেপির মেগা বিক্ষোভ!

দিল্লির যন্তরমন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভ কর্মসূচি মঙ্গলবারও একইভাবে অব্যাহত রাখার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, যন্তরমন্তরের এই আন্দোলন আপাতত থামছে না এবং আরও বেশি সংখ্যক প্রতিবাদীকে এই লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সোমবারের সংঘর্ষের সময় যাঁদের পুলিশ আটক করেছে, তাঁদের সমস্ত প্রকার আইনি সহায়তা দেওয়া হবে এবং আহত কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দিয়েছে সিজেপি। এদিকে, আন্দোলন দমনে পুলিশের নৃশংস ও মারমুখী আচরণের প্রতিবাদে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
সোমবারের এই দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ১১৮ জনেরও বেশি সদস্য গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। আহতদের তালিকায় স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, অ্যাডিশনাল কমিশনার এবং ডেপুটি কমিশনারের মতো আইপিএস ও উচ্চপদমর্যাদা সম্পন্ন আধিকারিকরাও রয়েছেন, যারা ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সোমবার গভীর রাতে দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, সংঘর্ষের সময় দিল্লির অ্যাডিশনাল ডিসিপি আনন্দ কুমার মিশ্র এবং নীহারিকা সহ চারজন এসিপি ও একজন স্পেশাল সিপি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে অ্যাডিশনাল ডিসিপি আনন্দ কুমার মিশ্রের হাত ভেঙে গিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বারবার চলা পরীক্ষার চরম অনিয়মের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার সিজেপি সমর্থক ও পরীক্ষার্থী যন্তরমন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল করে এগোতে থাকেন। পুলিশ আগেই এই পদযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ব্যারিকেড বসিয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সেই ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেঁধে যায়। দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের সহিংস মনোভাবের ফলেই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার হাসপাতালে গিয়ে আহত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। তিনি বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও কর্তব্যপরায়ণতার প্রশংসা করে এক বিবৃতিতে জানান, ইউনিফর্মের গায়ে আসা প্রতিটি আঘাতই কর্তব্যের প্রতি অগাধ নিষ্ঠার অকাট্য প্রমাণ বহন করে। অন্যদিকে, আহত এক পুলিশ কর্মী জানান যে জনপথের কাছে ক্লারিজেস হোটেলের সামনে হঠাৎ করেই বিক্ষোভকারীদের দিক থেকে প্রবল পাথর ছোড়া শুরু হয়। বহু বোঝানোর পরেও তাঁরা রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি হননি। কনস্টেবল থেকে শুরু করে আইপিএস অফিসার—প্রত্যেকেই ইট-পা পাথরের ঘায়ে রক্তাক্ত হয়েছেন। এমনকি একজন এএসআই-কে বাঁচাতে গিয়ে সাব-ইন্সপেক্টর অজয় কুমারও নিজের হাতে গুরুতর চোট পেয়েছেন।
এই উত্তাল পরিস্থিতির জেরে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে এখনও কঠোর বিধিনিষেধ জারি রাখা হয়েছে। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ দিল্লি পুলিশের কঠোর বলপ্রয়োগ ও লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা করে সংবাদমাধ্যমে জানান যে, পড়ুয়াদের নিরাপত্তার খাতিরেই সংসদ অভিমুখে মূল পদযাত্রা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সোনম ওয়াংচুকের নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ ও অনশন আন্দোলন কোনোভাবেই থামবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।