সিকিমের তিস্তা প্রকল্পে ‘ডেথ ট্র্যাপ’! মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণে ভয়াবহ ধস, সুড়ঙ্গের অন্দরে আটকে বহু শ্রমিক!

সিকিমের নামচি জেলার অন্তর্গত দক্ষিণ সিকিমের নামথাং বিধানসভা কেন্দ্রের সামারদুং-ঝুলুঙ্গে এলাকায় অবস্থিত তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এনএইচপিসি (NHPC)-র অধীনে প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে। ২০ জুলাই ২০২৬, দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ সমরডুং টানেল বা সুড়ঙ্গের ভিতরে হঠাৎ ঘটে যাওয়া এক মারাত্মক মিথেন গ্যাস বিস্ফোরণ এবং তার ঠিক পরেই নেমে আসা সুড়ঙ্গের ধসে গোটা এলাকা পুরোপুরি স্তব্ধ ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী ইতিমধ্যেই বহু মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হয়েছে এবং সুড়ঙ্গের মুখ সম্পূর্ণ বুজে গিয়ে ভিতরে অন্তত ২৭ জন বা তারও বেশি মানুষ আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের একটি অংশের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা এই দলটির মধ্যে ১৯ জন নির্মাণ শ্রমিক, দু’জন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার এবং এনএইচপিসির ৬ জন শীর্ষ আধিকারিক রয়েছেন।
প্রাথমিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সুবিশাল সুড়ঙ্গের ভিতরে পরিদর্শনের কাজ চলার সময়ই এই বিপত্তি ঘটে। সামারদুং অর্থাৎ থালথালে–সিরওয়ানি দিক থেকে সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ৩ কিলোমিটার গভীরে হঠাৎ করে এই বিকট বিস্ফোরণ ও ধস নামে। দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তগুলিতে সুড়ঙ্গের অন্দরে এনএইচপিসির ৬ জন আধিকারিক, প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১২ জন কর্মী, একাধিক অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিগত কর্মী ও সাধারণ শ্রমিকেরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে দুর্ঘটনার মুহূর্তে সুড়ঙ্গের অন্দরে সবমিলিয়ে ২৫ জন বা তারও বেশি ব্যক্তি কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ প্রাপ্ত আপডেট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত উদ্ধারকাজে বেশ কিছু সাফল্য মিললেও সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও ১৮ জনেরও বেশি মানুষ জীবিত বা মৃত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটি এখনও সরকারিভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা হয়নি।
এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বর্তমানে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), সিকিম পুলিশ, দমকল ও জরুরি পরিষেবা দফতর, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে অত্যন্ত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজে ব্যক্তিগতভাবে এই গোটা মর্মান্তিক পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখছেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত প্রশাসনিক দফতরের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে আটকে থাকা মানুষগুলিকে দ্রুত ও নিরাপদে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। সুড়ঙ্গের অন্দরে আটকে থাকা প্রত্যেকটি মানুষকে সুস্থ ও নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে উৎকণ্ঠা তুঙ্গে থাকলেও উদ্ধারকারী দলগুলির নিরলস প্রচেষ্টা জারি রয়েছে।