২১ জুলাইয়ের রিপোর্ট প্রকাশ্যে! মমতাকে ‘অপরাধী’ ঠাওরালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রিপোর্ট অবশেষে প্রকাশ্যে এল। আর এই রিপোর্ট ঘিরেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, শহিদ পরিবারগুলোর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘চরম অপরাধ’ ও ‘অবিচার’ করেছেন।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

রিপোর্ট প্রকাশের পর সাংবাদিক সম্মেলনে শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন:

  • শহিদ পরিবারে উদাসীনতা: শুভেন্দুর অভিযোগ, কমিশন যেখানে ২৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার সুপারিশ করেছিল, সেখানে শহিদ পরিবারগুলোকে মাত্র ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। আহতদের ৫ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে নামমাত্র ১৫ হাজার টাকা।

  • ‘ডিম-ভাত উৎসব’: শুভেন্দুর কথায়, “যাঁদের আত্মবলিদানের ওপর দাঁড়িয়ে আজ এটি একটি বাৎসরিক ‘ডিম-ভাত উৎসবে’ পরিণত হয়েছে, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে এর চেয়ে বড় অবিচার আর কী হতে পারে?”

  • সাক্ষ্য দিতে কেন যাননি মমতা? প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “সবচেয়ে বড় সাক্ষী তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ছিলেন। তিনি কমিশনের সামনে যাননি কেন? বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে যেভাবে প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল, তাঁকেও তো প্রশ্ন পাঠানো যেত। তিনি ভার্চুয়ালিও উত্তর দিতে পারতেন।”

  • পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ: শুভেন্দু দাবি করেন, প্রয়াত পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে ৪৪ জন সাক্ষী কমিশনের সামনে গেলেও মমতা নিজে যাননি। একজন সাক্ষী স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, এই কমিশন কেবল কিছু পুলিশ আধিকারিক ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিবকে বাঁচানোর জন্যই কাজ করেছে।

তথ্যের তথ্য গোপন করার অভিযোগ

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রাক্তন সরকার কমিশনের কাছে কোনো তথ্যই পেশ করেনি। তিনি বলেন, “আমি যদি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব তথ্যের কাস্টডিয়ান হই, তবে সেই তথ্য কেন গোপন রাখা হলো? কোনো তথ্য পাওয়া না গেলে তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে আমি বাধ্য।”