১২২ বছরের খরা কাটিয়ে ভারতে কি তবে ভয়াবহ জলের সংকট? জুনের বৃষ্টিতে বিরাট রেকর্ড!

চলতি বছরের বর্ষার শুভসূচনা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে হয়েছে, যা আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ভারতের ইতিহাসের দীর্ঘ রেকর্ড বলছে, চলতি বছরের জুন মাসটি বিগত বছরগুলির তুলনায় পঞ্চম সর্বাধিক শুষ্ক মাস হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এই সময়ে দেশজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা কৃষি অর্থনীতি এবং জল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যখন দেশের একটি বড় অংশে মানসুন ঝিরঝির করে আসার কথা, ঠিক সেই সময়েই অনাবৃষ্টি এবং তীব্র দাবদাহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের তথ্যপ্রযুক্তির প্রধান কেন্দ্র ও ভারতের সিলিকন ভ্যালি নামে পরিচিত বেঙ্গালুরু শহরের আবহাওয়া পরিস্থিতি চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। শহরটিতে সম্প্রতি বিগত ১১২ বছরের ইতিহাসে জুলাই মাসের উষ্ণতম দিন রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রার পারদ অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধারাবাহিক এবং মারাত্মক প্রভাবের ফলেই ঋতুচক্রের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সময়মতো পর্যাপ্ত বর্ষার অভাব এবং লাগাতার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে শহরাঞ্চলগুলিতে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে, যা অদূর ভবিষ্যতে গভীর পানীয় জলের সঙ্কটের পূর্বাভাস দিচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জুন মাসে মৌসুমী বায়ুর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতিতে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। দেশের কৃষিকাজ যা মূলত বর্ষার জলের ওপর নির্ভরশীল, তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা পর্যাপ্ত সেচের জল না পাওয়ার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবেশবিদদের মতে, অবিলম্বে পরিবেশ রক্ষা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার না করলে আগামী দিনে এই ধরনের চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হওয়া ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর থাকবে না। সাধারণ মানুষকেও জল অপচয় রোধ করতে এবং জল সংরক্ষণে আরও বেশি সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।