বয়স বাড়লেই প্রস্রাবের সমস্যা? অবহেলা করলেই ডেকে আনছেন মারণ ক্যানসার! সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা!

পুরুষদের শরীরে বাসা বাঁধা অত্যন্ত সাধারণ অথচ মারাত্মক ক্যানসারগুলির মধ্যে প্রস্টেট ক্যানসার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নীরব রোগটির সবচেয়ে বড় এবং বিপজ্জনক দিক হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এটি সাধারণত কোনো রকম স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই নীরবে বিকশিত হতে থাকে। যার ফলে বহু রোগীর ক্ষেত্রেই এই মারণ রোগ ধরা পড়ে তখন, যখন ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। পিএসআরআই হসপিটাল, সাকেতের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, হেমাটোলজিস্ট ও অনকোলজিস্ট ডা. অমিত উপাধ্যায় জানিয়েছেন যে, এটি একটি অত্যন্ত প্রচলিত ভুল ধারণা যে প্রস্টেট ক্যানসার সবসময় দৃশ্যমান লক্ষণ দিয়ে শুরু হয়। তাঁর মতে, শুরুর দিকে অনেক রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ বোধ করেন এবং তাদের কোনো ধরনের শারীরিক অস্বস্তি হয় না।
বিশেষজ্ঞদের জোরালো পরামর্শ হলো, শুধুমাত্র শারীরিক লক্ষণের ওপর নির্ভর করে বসে না থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে যে সমস্ত পুরুষের বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি। প্রস্টেট ক্যানসারের এমন ৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ রয়েছে, যেগুলিকে কখনোই সাধারণ বার্ধক্যের লক্ষণ বলে অবহেলা করা উচিত নয়। প্রথমত, ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া, বিশেষ করে রাতেরবেলা ঘুম ভেঙে বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, প্রস্রাব করার সময় তীব্র অসুবিধা, প্রস্রাবের বেগ বা ধার দুর্বল হয়ে যাওয়া, অথবা মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি হয়নি এমন অনুভূতি হওয়া চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
তৃতীয়ত, প্রস্রাব কিংবা বীর্যের সঙ্গে রক্তপাত হওয়াকে কোনোমতেই সাধারণ ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া ভুল হবে, কারণ এটি প্রস্টেট ক্যানসার সহ একাধিক মারাত্মক রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে। চতুর্থত, তলপেট, কোমর কিংবা পেলভিস অঞ্চলে যদি দীর্ঘস্থায়ী এবং অবিরাম ব্যথা অনুভূত হয়, তবে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার। পঞ্চমত, কোনো রকম কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন হ্রাস পাওয়া এবং শরীরে দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ বা ক্লান্তি বজায় থাকাও চিন্তার বিষয়। ডা. অমিত উপাধ্যায়ের মতে, এই সমস্ত লক্ষণ দেখা দেওয়ার অর্থ এই নয় যে ওই ব্যক্তির নিশ্চিতভাবেই প্রস্টেট ক্যানসার হয়েছে, কারণ অনেক সময় সাধারণ ইউরিনারি ইনফেকশন বা অন্য সমস্যার কারণেও এমন হতে পারে। তবে সময়মতো ক্যানসার স্ক্রিনিং ও সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই মারণ রোগকে সম্পূর্ণ জয় করা সম্ভব।