এক লতায় দূর হবে হাজার রোগ! অমৃত সমান এই আয়ুর্বেদ ভেষজের জাদুকরী গুণ জানলে চমকে যাবেন!

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে গিলয়কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী ঔষধি গাছ হিসেবে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। সাধারণ মানুষের কাছে এটি “অমৃত” লতা নামেই সমধিক পরিচিত, কারণ মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে এবং বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এর জুড়ি মেলা ভার। বর্তমান সময়ে দেশের গ্রাম ও শহর উভয় এলাকার সচেতন মানুষই তাদের বাড়ির বারান্দায় কিংবা বাগানে এই বহুমুখী ঔষধি লতা রোপণ করছেন। বিশিষ্ট আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে এবং পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করতে পারলে গিলয় আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ মেটাবলিজম ঠিক রাখার পাশাপাশি বহুবিধ শারীরিক উপকার সাধন করতে পারে।
প্রখ্যাত আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ বৈদ্য বিষ্ণু দত্ত প্রজাপতি সংবাদমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়ে বলেছেন যে, গিলয়ের মধ্যে এমন কিছু শক্তিশালী প্রাকৃতিক যৌগ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তোলে। প্রাচীনকাল থেকেই এটি সাধারণ সর্দি-কাশি, ফ্লু এবং ঋতু পরিবর্তনের সময় লেগেই থাকা ভাইরাল জ্বরের চিকিৎসায় অত্যন্ত সফলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, এটিকে কখনোই কোনো মারাত্মক রোগের অলৌকিক নিরাময় হিসেবে ভুল ভাবা উচিত নয়, বরং এটিকে একটি অত্যন্ত কার্যকরী আয়ুর্বেদিক সহায়ক বা প্রিভেন্টিভ কেয়ার হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। যারা ঘন ঘন সর্দি-কাশির মতো সংক্রমণে ভোগেন, তাঁদের জন্য গিলয় অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।
এছাড়াও, আয়ুর্বেদে গিলয়কে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী শরীর শোধক বা ডিটক্সিফাইং এজেন্ট হিসেবেও গণ্য করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভেষজ লতাটি মানব শরীরের সামগ্রিক হজমতন্ত্রের জন্যও ভীষণ উপকারী। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বদহজম, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ক্ষুধামন্দার মতো অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত এবং পরিমিত পরিমাণে গিলয় সেবন করলে পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং পরিপাকতন্ত্র চাঙ্গা থাকে। পাশাপাশি, আয়ুর্বেদে বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘস্থায়ী জ্বরের চিকিৎসাতেও গিলয়ের ক্বাথ বা তাজা রস ব্যবহারের প্রাচীন বিধান রয়েছে। তবে তীব্র জ্বর বা কোনো গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে শুধুমাত্র ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গিলয় অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি প্রাকৃতিক উপাদান। বেশ কিছু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি রক্তের শর্করার বা ব্লাড সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। তবে ডায়াবেটিসের ওষুধ যাঁরা ইতিমধ্যেই নিয়মিত খাচ্ছেন, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এটি খাওয়া উচিত, অন্যথায় রক্তের শর্করা অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়াও গেঁটেবাত বা আর্থ্রাইটিসের ব্যথা কমাতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে গিলয়ের জুড়ি মেলা ভার। ফলের রস, ক্বাথ, গুঁড়ো কিংবা ট্যাবলেটের মতো বিভিন্ন মাধ্যমে এটি গ্রহণ করা যায়।