নদিয়ায় চরম নৃশংসতা! পাটক্ষেতে টেনে নিয়ে গিয়ে বিশেষভাবে সক্ষম তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেফতার ২

পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার শান্তিপুর থানা এলাকায় ঘটে যাওয়া এক নারকীয় ও লোমহর্ষক ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এক বিশেষভাবে সক্ষম তরুণীকে জোরপূর্বক পাট জমিতে টেনে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই যুবকের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে যে, ২৫ বছরের ওই বিশেষভাবে সক্ষম তরুণী গত রবিবার তাঁর ঠাকুমার সঙ্গে সংলগ্ন মাঠে ছাগল চড়াতে গিয়েছিলেন। সেই একই সময়ে স্থানীয় শান্তিপুর এলাকারই দুই যুবক পাশের একটি আমবাগানে বসে মদ্যপান করছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, ছাগল চড়াতে চড়াতে যখন ওই তরুণী তাঁর ঠাকুমার কাছ থেকে কিছুটা দূরে চলে যান, ঠিক সেই সুযোগেই লম্পট দুই যুবক তাঁর হাত ধরে জোরপূর্বক পাশের একটি পাট জমির দিকে টেনে নিয়ে যায়। অভিযোগ, নির্জন সেই পাটক্ষেতের ভেতরেই ওই তরুণীর ওপর অকথ্য শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং তাঁকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করা হয়।

তবে এই পৈশাচিক ঘটনার সময় আশপাশের এলাকার দুই সচেতন বাসিন্দার কানে তরুণীর আত্মচিৎকার পৌঁছে যায়। তাঁরা কোনো সময় নষ্ট না করে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান এবং তাঁদের চোখের সামনেই পুরো জঘন্য অপরাধের চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। স্থানীয় ওই দুই বাসিন্দা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পুরো ঘটনার সেই ভয়াবহ দৃশ্য নিজেদের মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে রাখেন। পরবর্তীতে পুলিশের হাতে সেই গোপন ভিডিও প্রমাণ হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

গত রবিবার গভীর রাতে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে শান্তিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তৎপরতার সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করে স্থানীয় থানার পুলিশ। দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকেই অভিযুক্ত দুই অপরাধীকে পাকড়াও করে পুলিশ। এরপর ধৃতদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রানাঘাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অপরাধের পেছনের সঠিক তথ্য উদঘাটন করতে অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই নির্মম ঘটনার পর থেকেই নির্যাতিতার পরিবার ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।