আস্ত নদী গায়েব! কেলেঘাই নদী চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে উত্তাল পূর্ব মেদিনীপুর, কাঠগড়ায় বড়সড় দুর্নীতি

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বুক চিরে বয়ে চলা কেলেঘাই নদীকে ঘিরে বর্তমানে এক চরম চাঞ্চল্যকর ও অবিশ্বাস্য অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, আস্ত একটি নদীকেই যেন ধীরে ধীরে চুরি করে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে এবং নদীর বুক থেকে হু হু করে মাটি তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঠিক কোথায় যাচ্ছে এই বিপুল পরিমাণ মাটি, কীভাবে এবং কাদের মদতে এই কারবার চলছে, তা নিয়ে এখন গোটা পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলেও এই অবৈধ নদী চুরির ধারা কোনোভাবেই থামেনি।
গত সোমবার পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত এই কেলেঘাই নদী পরিদর্শনে যান রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং খাদ্য সরবরাহ দফতরের প্রতিমন্ত্রী তথা ভগবানপুরের বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক। চণ্ডীপুর বিধানসভার শিলাখালি থেকে শুরু করে কাঁটাখালি, লাঙলকাটা এবং পটাশপুর বিধানসভার আমগেছিয়া পর্যন্ত কেলেঘাই নদীর দীর্ঘ ও সুদীর্ঘ পথ নিজে উপস্থিত থেকে ঘুরে দেখেন তিনি। নদীর বর্তমান বেহাল ও ক্ষতবিক্ষত রূপ স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করার পরেই মন্ত্রীর খোদ মুখেই এই অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন মন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, অত্যন্ত অপরিকল্পিত এবং দিশাহীনভাবে কেলেঘাই নদীর বুকে যত্রতত্র মাটি স্তূপীকৃত করে রাখা হয়েছে। মাটিগুলো আসলে কোথায় পাচার হচ্ছে, কীভাবে সরানো হচ্ছে, কেন এই প্রক্রিয়া চলছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত রয়েছে— তার কোনোকিছুই বোধগম্য হচ্ছে না। পাশাপাশি তিনি এও প্রশ্ন তোলেন যে, এই অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে রাজ্য সরকারের কোষাগারে কোনো রাজস্ব বা রেভিনিউ আসছে কি না, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হবে।
সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন যে, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্যের সেচমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আবারও কেলেঘাই নদী পরিদর্শনে আসবেন। শুধু তাই নয়, কেলেঘাই নদীর এই ভয়াবহ অবস্থা এবং এর নেপথ্যের কারবার নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও তিনি একটি বিস্তারিত লিখিত রিপোর্ট পাঠাবেন। উল্লেখ্য, প্রতি বছর বর্ষাকাল এলেই কেলেঘাই নদীর প্লাবন ও ভয়াবহ বন্যার আতঙ্কে দিন কাটান পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর, চণ্ডীপুর, পটাশপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং বিধানসভার কয়েক লক্ষ সাধারণ মানুষ।
নদীর মূল বাঁধ এবং খাদের অভ্যন্তরে সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধভাবে বড় বড় মাছের ভেড়ি, ফিসারি এবং ইটভাটা গড়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের আমল থেকেই এই বেআইনি কারবার রমরমিয়ে চলে আসছে। বর্তমানে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও কেলেঘাই নদীর বুক থেকে মাটি চুরির এই বেপরোয়া প্রবণতা এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক আশ্বাস দিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সমস্ত ঘটনাটি জানানো হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।