ডাইনি অপবাদ দিয়ে মহিলার চোখ নষ্টের চেষ্টা! মোড়লদের ফতোয়ায় ভয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হল নিগৃহীত পরিবার!

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও সমাজের কিছু অন্ধকার কোণ থেকে এখনও মুছে যায়নি মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও কুসংস্কারের কালো ছায়া। ডাইনি প্রথার মতো অন্ধ বিশ্বাসের অপবাদে এক আদিবাসী মহিলা ও তাঁর গোটা পরিবারকে বেধড়ক মারধর, জনসমক্ষে জুতোপেটা এবং জোর করে গ্রামছাড়া করার এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে পুরাতন মালদহের ভাবুক এলাকায়। স্থানীয় মাতব্বর ও মোড়লদের ফতোয়া এবং সামাজিক হিংসার চরম শিকার হয়ে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ওই নিগৃহীত পরিবারটি।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে পরিকল্পিতভাবে ওই আদিবাসী মহিলা ও তাঁর স্বামীকে স্থানীয় মোড়লদের সালিশি সভায় ডেকে আনা হয়। এরপর শত শত মানুষের সামনে তাঁদের মাঝখানে বসিয়ে জোরপূর্বক ‘ডাইনি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। এই কুসংস্কারের জিগির তুলে শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন—নির্যাতিতা মহিলাকে জনসমক্ষে গণপ্রহারের পাশাপাশি জুতোপেটা করা হয়। এই চরম অত্যাচারের খবর পেয়ে মহিলার ভাই এবং সন্তানরা তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে উন্মত্ত জনতা তাঁদের ওপরও চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর করে। বর্বরোচিত এই মারধরের জেরে নির্যাতিতা মহিলার বাম চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে চিকিৎসকদের সূত্রে জানা গিয়েছে।

এদিকে, এই অমানবিক ঘটনার একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই গোটা জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর টনক নড়ে প্রশাসনের। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মালদা থানার পুলিশ এবং নির্যাতিতা পরিবারটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু স্থানীয় মোড়ল ও মাতব্বরদের পক্ষ থেকে ক্রমাগত প্রাণনাশের চরম হুমকি আসায় ওই পরিবারটি এখনও নিজেদের আদি ভিটায় বা গ্রামে ফিরে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। বর্তমানে নিজের দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে চরম আতঙ্ক ও ভয়ের পরিবেশে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ওই নির্যাতিতা মহিলা।

এই ভয়াবহ ঘটনার পর নীরব না থেকে সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে স্থানীয় মালদহ থানায় মোট সাতজনের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করার পাশাপাশি পুরো ঘটনার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে মালদা থানার পুলিশ। সমাজ সচেতনমহলের দাবি, দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে কুসংস্কারের এই অন্ধকার রূপ আরও গ্রাস করবে সমাজকে।