বিদেশযাত্রায় বড় ধাক্কা অভিষেকের! চোখের চিকিৎসার অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট, পরামর্শ দিলেন এসএসকেএমের!

চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেলেন না তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ২৯ জুলাই তাঁর বিদেশ যাওয়ার কথা থাকলেও, কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। পরিবর্তে তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালেই চোখের চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছে আদালত। মামলার শুনানিপর্বে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “আপনি কি কখনও এসএসকেএম গিয়েছিলেন?” বিচারপতির স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, রাজ্যের পরিকাঠামোয় চিকিৎসা সম্ভব না হলে তবেই বিদেশ যাওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।
এদিন মামলার শুনানিমঞ্চে অভিষেকের দুই আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য এবং সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের কাছে সওয়াল করে জানান যে, তাঁরা সমস্ত তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের মেয়াদ যেন বাড়ানো হয়। পাশাপাশি, আদালতের কাছে পুনরায় আবেদন জানানো হয় যাতে তাঁদের মক্কেলকে চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। আইনজীবীরা আরও উল্লেখ করেন যে, এর মধ্যেই তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ভয়েস স্যাম্পেলও জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে সেই আবেদন সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে বিচারপতির একক বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, “আপনার চোখের এই চিকিৎসা কি কলকাতার কোনো উন্নত হাসপাতালেও করা সম্ভব হয়নি? আদালত তখনই আপনাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিতে পারে, যখন চিকিৎসকরা নিশ্চিত করবেন যে এই রোগ বা চিকিৎসার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা এখানে নেই।” বিচারপতি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশে একটি স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হোক। সেই বিশেষ বোর্ড নির্ধারণ করবে যে অভিষেকের চোখের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কতটা গুরুতর এবং এতটা দীর্ঘ বিমান যাত্রা তাঁর পক্ষে আদৌ নিরাপদ কি না।
আদালত সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে, এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। সেই কারণে এই মুহূর্তে অভিযুক্তকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আদালত। তবে বিদেশযাত্রার অনুমতি না মিললেও, বড় স্বস্তি দিয়ে বিচারপতির বেঞ্চ অভিষেকের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী দুর্গাপূজার আগে অর্থাৎ চলতি বছরের ৬ অক্টোবর পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থাগুলি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর বা কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না। আগামী অগস্ট মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।