রাতে কফি খাওয়া বা ফোনে স্ক্রোলিংয়ের অভ্যাস রয়েছে? এই ৫টি ভুল নিমেষেই কেড়ে নিতে পারে আপনার গভীর ঘুম!

বর্তমান ব্যস্ততম জীবনযাত্রায় অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা এক অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অনেকেই মনে করেন যে, রাতে ঘুমানোর আগে সামান্য মদ্যপান করলে ঘুম খুব ভালো হতে পারে, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। মদ্যপান করলে সাময়িকভাবে ঝিমুনি এলেও তা রাতের ঘুমের চক্রকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে, যার ফলে বারবার ঘুম ভেঙে যায় এবং কোনোভাবেই গভীর বা প্রশান্তিদায়ক ঘুম হয় না। এর পাশাপাশি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ছোট অথচ ক্ষতিকর অভ্যাস অনিদ্রার সমস্যাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। একজন সচেতন মানুষ হিসেবে এই বদভ্যাসগুলি সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি, যাতে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমানোর ঠিক আগে কোনোভাবেই ভারী শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করা উচিত নয়। অনেকেই কাজের ব্যস্ততার কারণে রাতের দিকে জিম বা ভারী ওয়ার্কআউট করেন, যার ফলে শরীরের পেশি অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিপাক হার বৃদ্ধি পায়। এর জেরে মস্তিষ্ক ও শরীর অনেক বেশি সজাগ হয়ে পড়ে, ফলে বিছানায় যাওয়ার পরেও সহজে ঘুম আসতে চায় না। এই অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়িকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তোলে।
এর পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে বড় নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিছানায় শুয়ে দীর্ঘক্ষণ স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিন ব্যবহার করা। ঘুমাতে যাওয়ার আগে মোবাইল ফোনের নীল আলো বা ব্লু-লাইট মানবদেহের স্বাভাবিক সার্কেডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm) বা ঘুম-জাগরণের চক্রকে মারাত্মকভাবে বিগড়ে দেয়। এই নীল আলোর প্রভাবে মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমে যায়, যা ঘুম আসার প্রক্রিয়াটিকে দীর্ঘায়িত করে এবং ঘুমের মান নষ্ট করে।
অন্যদিকে, রাতের খাবার এবং ঘুমের সময়ের ব্যবধান নিয়েও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। অনেক রাতে বাড়ি ফিরে অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত ও ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস আমাদের পরিপাকতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে শুধু যে রাতের ঘুম নষ্ট হয় তা-ই নয়, বরং দেহে মেদ জমে ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও বহুগুণ বেড়ে যায়। এছাড়া ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় যেমন কফি বা কোল্ড ড্রিংকস পানের অভ্যাসও ঘুমের বড় শত্রু। কফি সেবনের পর তার উদ্দীপক প্রভাব প্রায় ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত শরীরে সক্রিয় থাকে, যা কোনোভাবেই সহজে শান্ত হতে দেয় না। তাই সুস্থ ও ঝরঝরে জীবন পেতে এই বদভ্যাসগুলি আজই ত্যাগ করা প্রয়োজন।