বাংলা ভাষাতেই চলবে এবার প্রশাসন! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চিঠির পরেই বড় নির্দেশিকা জারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রশাসনিক কাজকর্মে বাংলা ভাষার মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহার ও তার পরিধি আরও বহুগুণ প্রসারিত করার লক্ষে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল বর্তমান রাজ্য সরকার। বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক তথ্য প্রকাশ্যে এনে জানিয়েছেন যে, দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তরফ থেকে তাঁকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠিতে খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক স্তরে এবং সরকারি কাজকর্মের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করার জোরালো পরামর্শ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অত্যন্ত সদর্থক ও সময়োপযোগী নির্দেশনার পরেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন, এবং তড়িঘড়ি আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি স্তরে বাংলা ভাষার পূর্ণাঙ্গ ও বাধ্যতামূলক প্রয়োগ করার ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন যে, আগামী দিনে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের মধ্যকার সমস্ত দাপ্তরিক চিঠিপত্র ও পারস্পরিক যোগাযোগ একান্তভাবেই বাংলা ভাষায় সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের প্রতিটি দপ্তরের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্মে বাংলা ভাষার অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ কোনো জটিলতা ছাড়াই সমস্ত সরকারি পরিষেবা সহজে লাভ করতে পারেন। এছাড়া সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজ্যের সমস্ত ডিজিটাল পরিষেবা, সরকারি পোর্টাল এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপগুলির ইন্টারফেসও সম্পূর্ণভাবে বাংলায় রূপান্তরিত করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সাইবার দুনিয়ায় এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারে মাতৃভাষাকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়ার এক অনন্য নজির স্থাপন করতে চলেছে রাজ্য প্রশাসন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সুদূরপ্রসারী ঘোষণার পরেই বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যজুড়ে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সঠিক মর্যাদা এবং ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বুদ্ধিজীবী মহলে নানা বিতর্ক চলে আসছিল। বিরোধী দলগুলি ও বিভিন্ন ভাষাপ্রেমী সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল যে, দাপ্তরিক কাজে বাংলা ভাষার অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এমতাবস্থায়, খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চিঠিকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের এই তড়িৎ সিদ্ধান্ত সেই সমস্ত দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও বিতর্ককে অনেকটাই প্রশমিত করবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব ঘোচাতে মাতৃভাষার এই ব্যবহার এক জাদুকরী ভূমিকা পালন করবে।

আসন্ন পয়লা সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকে বাংলার সাধারণ মানুষ সরকারি দপ্তরে গিয়ে নিজেদের মাতৃভাষাতেই সমস্ত কাজের নিষ্পত্তি করতে পারবেন। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন ভাষাপ্রেমী সংগঠন ও সাধারণ নাগরিক সমাজ। তাঁদের মতে, বহু বছর পর প্রশাসনিক স্তরে বাংলার সঠিক অধিকার ও সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি সুদূরপ্রসারী ও মাইলফলক পদক্ষেপ। এখন দেখার বিষয়, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে নির্ধারিত এই নিয়মগুলি কতটা নিখুঁতভাবে এবং সফলভাবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়।