জন্তর মন্তরে ধুন্ধুমার! নিট কাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল সংসদ অভিযান, জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে বসল ককরোচ জনতা পার্টি

NEET পরীক্ষা কেলেঙ্কারী, প্রশ্নফাঁস এবং ব্যাপক পরীক্ষার অনিয়মের মতো একাধিক গুরুতর বিষয়ের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদের ডাক দিয়ে সোমবার এক অভূতপূর্ব ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন সকাল থেকেই দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তর চত্বরে এক বিশাল ‘চলো সংসদ’ অভিযানের আয়োজন করা হয়, যার জেরে গোটা এলাকায় চরম ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই বিক্ষোভের তীব্রতা ও আন্দোলনের ঝাঁঝ দেখেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র সরকার। আন্দোলনকারীদের তরফে জানানো হয়েছে যে, তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে কেন্দ্র সরকার শেষ পর্যন্ত সিজেপির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই সোমবার বেলা ১১টা ৫২ মিনিট নাগাদ সিজেপির দুই প্রতিনিধি আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সরকারি বাসভবনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন।
সিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এদিন সকালেই সরকারের উচ্চস্তর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাঁদের প্রধান ও এক নম্বর দাবি হল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ, এবং আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সেই নির্দিষ্ট দাবি নিয়েই মূল আলোচনা চলছে বলে খবর। এর আগে গত রবিবার রাত থেকেই যন্তর মন্তর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় হাজার হাজার ছাত্র, যুব ও আন্দোলনকারীরা জমায়েত হতে শুরু করেন। সিজেপির প্রধান অভিযোগ, বিগত দিনে ঘটে যাওয়া নিট পরীক্ষার তীব্র অনিয়ম ও দুর্নীতির সমস্ত দায় থেকে কেন্দ্র সরকার সম্পূর্ণভাবে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং নিজেদের জবাবদিহি এড়াতে চাইছে।
এদিকে সংসদমুখী এই বিশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দিল্লির রাজপথ রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের শক্তপোক্ত ব্যারিকেড ভেঙে জোর করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কর্তব্যরত নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে তাদের তুমুল ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়েছিল। বিক্ষুব্ধ জনতার দাবি, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে বেপরোয়া লাঠিচার্জ করেছে। যদিও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (X) দেওয়া এক দাপ্তরিক বিবৃতিতে দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, জন্তর মন্তরে কোনো ধরনের লাঠিচার্জ বা বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামলানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে কোনো ধরনের ভুয়ো গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিক্ষোভকারীদের কোনোভাবেই সংসদ ভবন পর্যন্ত মিছিল করে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাদের অগ্রগতির পথ আটকে দিয়ে কেরল ভবন পর্যন্তই সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যারিকেড অতিক্রম করে কাউকে এক ইঞ্চিও সামনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। উল্লেখ্য, সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনকে সামনে রেখে গোটা জাতীয় রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়া করা হয়েছে। সংসদ ভবন, জন্তর মন্তর এবং রাজধানীর অন্যান্য স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা জওয়ান মোতায়েন রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এবং যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লি মেট্রোর অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত ওই স্টেশনগুলিতে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।