সোনমের অনশন ও সিজেপির হুঙ্কারে কি পিঠটান দিল মোদী সরকার? সংসদ অভিযানের আগেই এল বড়সড় আপডেট!

সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের একটানা আমরণ অনশন এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র লাগাতার সর্বাত্মক প্রতিবাদের মুখে পড়ে অবশেষে কি কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখাতে শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার? সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন বা বাদল অধিবেশনের প্রাক্কালে অত্যন্ত হাই-ভোল্টেজ ‘চলো সংসদ’ অভিযানের ঠিক প্রাক্কালে সিজেপি নেতৃত্ব বিস্ফোরক এক দাবি করেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ টালবাহানা ও শীতল লড়াইয়ের পর অবশেষে খোদ কেন্দ্রের তরফ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রাথমিক চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা দাপ্তরিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তা সত্ত্বেও, সংসদ অভিযানের ঠিক আগে বিক্ষোভকারী শিবিরের এই চাঞ্চল্যকর দাবি দিল্লির রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো হুলুস্থুল ফেলে দিয়েছে।

একটি প্রথমসারির সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, সিজেপি-র অন্যতম প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন যে, এই প্রথমবার সরকারি ও প্রশাসনিক স্তরে তাঁদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সরকারের ঠিক কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা কোন উচ্চপদস্থ আমলা তাঁদের কাছে এই আলোচনার বার্তা পাঠিয়েছেন, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ মুখ খুলতে চাননি তিনি। এই প্রসঙ্গে সৌরভ দাসের পরিষ্কার মন্তব্য, “কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনেকটাই দেরি করে ফেলেছেন। তা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে আমরা অত্যন্ত খোলা মনে আমাদের বক্তব্য পেশ করেছি এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি যে আমরা ইতিবাচক আলোচনার জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট বার্তা আমাদের কাছে এসে পৌঁছয়নি। এখন বল সম্পূর্ণভাবে সরকারের কোর্টে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁদেরকেই নিতে হবে।”

কেন্দ্রের তরফ থেকে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের গুঞ্জন শোনা গেলেও, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবারের এই বহুচর্চিত সংসদ অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি একচুলও থমকে থাকেনি। অন্যদিকে, এই হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী ও ছাত্র-যুবকদের যেকোনো মূল্যে আটকে দিতে গোটা যন্তর মন্তর এলাকা এবং তার পার্শ্ববর্তী সংসদ চত্বর নিরেট নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর মিলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার অজুহাতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী সিজেপি নেতাকে পুলিশি হেফাজতে আটকও করা হয়েছে, যা নিয়ে উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে।

এরই মাঝে, নিজের অনশন প্রত্যাহারের জোরালো ইঙ্গিত দিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে ৩টি কঠোর শর্তের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন প্রবীণ সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। সামাজিক মাধ্যমে নিজের হাতে লেখা একটি দীর্ঘ ও স্পর্শকাতর খোলা চিঠি পোস্ট করে তিনি এই শর্তগুলির রূপরেখা তুলে ধরেছেন। ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আপনারা সকলেই জানতে উদগ্রীব যে আমি ঠিক কবে আমার এই অনশন ভাঙব। আমি আগেই পরিষ্কার করে জানিয়েছিলাম যে আজ অর্থাৎ ২০ জুলাই আমি আমার অনশন প্রত্যাহার করতে পারি, যদি কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতাগুলির সমস্ত দায় প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেয়।”

এই প্রধান শর্ত ছাড়াও তিনি আরও দুটি বিকল্প দরকষাকষির শর্ত রেখেছেন। সোনম দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সিজেপি নেতৃত্ব যদি ব্যক্তিগতভাবে সংসদে গিয়ে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি পান এবং দেশের বিভিন্ন বিরোধী ও শাসক দলের সাংসদরা যৌথভাবে এই জাতীয় শিক্ষা সংস্কারের গুরুতর বিষয়টি নিয়ে সংসদের অন্দরে বিশেষ আলোচনার জোরালো আশ্বাস দেন, তবেই তিনি অনশন ভঙ্গ করবেন। বিকল্প হিসেবে তিনি আরও জানান, শারীরিক অবস্থার চরম অবনতির কারণে তিনি যদি নিজে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় সংসদে যেতে না পারেন, তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিশিষ্ট সাংসদদের সশরীরে হাসপাতালে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হবে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার বিষয়ে লিখিত আশ্বাস দিতে হবে। এই তিনটি কঠিন শর্তের মধ্যে যেকোনো একটি শর্ত পূরণ করলেই তিনি নিজের অনশন ভাঙতে সম্মত আছেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে চলা টানা অনশনের জেরে শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটায় গত শনিবারই দিল্লি পুলিশ জোর করে সোনম ওয়াংচুককে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ স্থল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু হাসপাতালের বন্ধ শয্যায় চিকিৎসাধীন থেকেও তাঁর ঐতিহাসিক অনশন আন্দোলন বিন্দুমাত্র থামেনি। এদিকে, সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলী আংমো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দাবি করেছেন যে, হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে জোর করে মুখে খাবার তুলে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও সোনম এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের সলিড খাবার তো দূরের কথা, এক ফোঁটা তরল খাবারও মুখে তোলেননি। এখন গোটা দেশের নজর রয়েছে সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে মোদী সরকার সোনম ওয়াংচুকের এই ৩টি কঠিন শর্তের কোনোটিতে শেষ পর্যন্ত সাড়া দেয় কি না, সেদিকেই।