‘আমি ৫৬ বছরের যুবকের কথা বলছি না!’ স্পেস স্টার্টআপের সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী মোদীর তীর্যক বাণে শোরগোল

সোমবার সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের সূচনার প্রাক্কালে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও আক্রমণাত্মক ভাষণে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন অধিবেশন ফলপ্রসূ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তিনি দেশের তরুণ প্রজন্মের সাফল্যকে সামনে রেখে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে এক বেনজির ও শ্লেষাত্মক কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন। ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’-এর ‘বিক্রম-১’ মহাকাশ রকেটের সফল উৎক্ষেপণের নেপথ্যে থাকা তরুণ বিজ্ঞানীদের ভূয়সী প্রশংসা করার সময় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বলেন যে, তিনি কোনোমতেই “৫৬ বছর বয়সী কোনো যুবকের কথা” বলছেন না। প্রধানমন্ত্রীর এই তীর্যক ও পরোক্ষ মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে, যা অধিবেশনের শুরুতেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাতকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, বিশ্বজুড়ে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের পরিবেশ সত্ত্বেও ভারত ৭.৭ শতাংশ শক্তিশালী বৃদ্ধির হার বজায় রেখে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজের শীর্ষস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেছে। মহাকাশ গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে, মাত্র ২৮ বছরের তরুণ দল ‘বিক্রম-১’ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের মেধা ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান যে, এই বর্ষাকালীন অধিবেশনে একাধিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংস্কারপন্থী বিল পাশ করানোর এজেন্ডা রয়েছে সরকারের সামনে।
সংসদের অন্দরে সুস্থ, তথ্যভিত্তিক এবং অর্থবহ বিতর্কের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সমস্ত রাজনৈতিক দল ও আইনপ্রণেতাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত তরুণ ও নতুন সাংসদদের সংসদের ফ্লোরে পর্যাপ্ত বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। তবে অধিবেশনের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রীর এই ‘৫৬ বছরের যুবক’ সংক্রান্ত রাজনৈতিক আক্রমণ এবং বিরোধীদের প্রবল হট্টগোলের জেরে আগামী ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলা এই বাদল অধিবেশন যে চরম সংঘাতময় ও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সম্পূর্ণ নিশ্চিত। সরকারের একের পর এক বড় সংস্কার বিলের মোকাবিলা করতে বিরোধী শিবিরও যে রণকৌশল চূড়ান্ত করে মাঠে নেমেছে, তা প্রথম দিনের সংসদীয় কার্যক্রম থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।