বয়স নাকি মেকআপের খেলা? ৬০-এ পৌঁছে সলমন খানের কোন লুক দেখে শিউরে উঠলেন ভক্তরা?

বয়স বাড়লেও নিজেকে সবসময় ফিট ও ছিপছিপে রাখতে ভালোবাসেন বলিউড ভাইজান সলমন খান। রূপালি পর্দায় তাঁর জাদুকরী উপস্থিতি ও স্টাইলিশ এন্ট্রি আজও প্রমাণ করে যে তিনি কীভাবে সময়ের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজের বয়স ধরে রেখেছেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ার পাতা উলটালেই সলমনের এক অন্যরকম ও অদ্ভুত লুক হু হু করে ভাইরাল হতে শুরু করে, যা দেখে তাঁর কোটি কোটি অনুরাগী থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেনরাও মারাত্মকভাবে চিন্তিত হয়ে পড়েন। ভাঙা গাল, ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত চেহারা দেখে অনেকেই ভাইজানের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেন, আবার একশ্রেণির মানুষ তাঁকে নিয়ে তুমুল সমালোচনা ও ট্রোলেও মেতে ওঠেন। অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা সেই তীব্র কটাক্ষের মোক্ষম অথচ দারুণ এক স্টাইলে জবাব দিলেন খোদ অভিনেতা।
সমালোচকদের কথার সরাসরি কোনো সস্তা প্রতিক্রিয়া না দিয়ে, এই মেগাস্টার সম্প্রতি তাঁর অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে নিজের কিছু নজরকাড়া নতুন ছবি শেয়ার করেন। এরপরই তিনি সরাসরি সবার উদ্দেশ্যে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে এক অন্যরকম বার্তা দেন। ছবিতে দেখা যায়, সলমন কালো রঙের পোশাক এবং একটি ক্লাসি কাউবয় টুপি পরে পোজ দিচ্ছেন এবং তাঁর সেই পোস্ট করা ছবিগুলো ছিল আকর্ষণীয় সাদাকালো টোনে মোড়া। ওই পোস্টটির সঙ্গে তাঁর দেওয়া একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ক্যাপশন সবার নজর কাড়ে, যেখানে তিনি লেখেন: “আপ লোগোঁ কি তবিয়ত ক্যায়সি হ্যায়?” অর্থাৎ, আপনাদের সকলের শরীর-স্বাস্থ্য বা তবিয়ত কেমন আছে?
মূলত ‘স্লাম রিহ্যাবিলিটেশন অথরিটি’ (এসআরএ)-র দপ্তরে এই সুপারস্টারের সাম্প্রতিক উপস্থিতির একটি ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার ঠিক পরপরই এই রহস্যময় পোস্টটি প্রকাশ্যে আসে। ওই বিশেষ ইভেন্টের ভিডিওটি ইন্টারনেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বহু নেটিজেন ৬০ বছর বয়সী এই অভিনেতার স্বাস্থ্য ভেঙে পড়া নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেন। আবার নেটিজেনদের অন্য একটি অংশ তাঁর শারীরিক পরিবর্তন ও বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠা নিয়ে বেজায় সমালোচনা করেন।
এই প্রসঙ্গে এক নেটিজেন কটাক্ষের সুরে মন্তব্য করেন, “সলমন খানের বয়স তো আর কম হলো না। তাঁর বয়স এখন ৬০ ছুঁইছুঁই। সময় কারোর জন্যেই থেমে থাকে না, আর মানুষ যতই আইকনিক বা জনপ্রিয় হোন না কেন, প্রকৃতির নিয়মে বয়সের প্রভাব তাঁর ওপর পড়বেই।” অন্য একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করে লেখেন, “ভাইজানের এই ক্লান্ত রূপ সত্যি দেখা খুব কষ্টের। তাঁর চোখের দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তিনি কতটা অসুস্থ ও ক্লান্ত।” আরেকজন তো আরও এক ধাপ এগিয়ে লিখে বসেন, “বন্ধুরা, বলুন তো সলমন খানের আসলে কী হয়েছে? শুধু একবার তাঁর মুখের দিকে ভালো করে তাকান।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা এই কাদা ছোড়াছুড়ির মাঝে আরও এক নেটিজেন লেখেন, “নব্বইয়ের দশকের বাকি তারকাদের তুলনায় সলমন খানের চেহারায় বয়সের ছাপ সবচেয়ে দ্রুত ও খারাপভাবে পড়েছে। অতিরিক্ত শর্টকাট আর স্টেরয়েডের ব্যবহার করলে এমন ফল হওয়াই স্বাভাবিক। নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলব, তোমরা বরং প্রাকৃতিকভাবে শরীর গঠন করো, পুষ্টিকর খাবার খাও।” এমনকি কেউ কেউ কটাক্ষ করে এও দাবি করেন যে, আসন্ন সিনেমাগুলোতে ভারী ভিএফএক্স (VFX) ব্যবহার করে নিজের ফোলা ও বয়সের ছাপ ঢাকা শরীরকে আড়াল করার চেষ্টা করবেন ভাইজান।
তবে সমালোচনার পাশাপাশি এই সুপারস্টার তাঁর কੱটটার অনুগামীদের তরফ থেকে আকাশছোঁয়া সমর্থনও পেয়েছেন। বহু ভক্তই বয়স নিয়ে এমন সস্তা উপহাস ও কটাক্ষের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। একজন অনুরাগী সোশ্যালে লেখেন, “সলমনের কোনো সমস্যা বা গুরুতর রোগ হয়নি। মেকআপ ছাড়া একজন ষাটোর্ধ্ব মানুষের স্বাভাবিক চেহারা যেমন হওয়া উচিত, এটি ঠিক তেমনই একটি রিয়েল লুক।” পেশাগত ফ্রন্টে, সলমন খান বর্তমানে পরিচালক অপূর্ব লাখিয়া পরিচালিত আসন্ন হাই-প্রোফাইল সিনেমা ‘মাতৃভূমি’ (Maatrubhoomi)-র মুক্তির জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।