‘নতুন প্রেমিকের টানে ভুলে গেলেন ৭ বছরের সম্পর্ক’, সাপ দিয়ে স্বামীকে খুন, মেরঠে চাঞ্চল্য

উত্তরপ্রদেশের মেরঠে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে যা সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। অভিযোগ, বিমার ২০ লক্ষ টাকার লোভে নিজের স্বামীকে বিষধর সাপের ছোবলে খুন করেছেন স্ত্রী। এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্ত্রী দামিনী এবং তাঁর প্রেমিক ও স্কুলের গাড়িচালক তুষারকে গ্রেফতার করেছে মেরঠ পুলিশ।

তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় সাত বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন অতুল ও দামিনী। তাঁরা দুজনে মিলে ‘কৃষ্ণ কিডস স্কুল’ নামে একটি প্লে-স্কুল চালাতেন। সেই স্কুলেরই গাড়িচালক তুষারের সঙ্গে দামিনীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পুলিশ জানিয়েছে, তুষারের সঙ্গে মিলে দামিনী তাঁর স্বামী অতুলকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল অতুলের নামে থাকা ২০ লক্ষ টাকার জীবনবিমার টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিলাসী জীবন কাটানো।

পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। পুলিশ জানিয়েছে, দামিনী কৌশলে রাতের খাবারে অতুলকে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। অতুল যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন তুষার সাপুড়ের কাছ থেকে আনা একটি বিষধর সাপ অতুলের চাদরের ভেতর ছেড়ে দেয়। সাপের ছোবলেই অতুলের মৃত্যু হয়। তাদের ধারণা ছিল, সাপের ছোবলকে মানুষ দুর্ঘটনা হিসেবেই ধরবে এবং কেউ সন্দেহ করবে না।

তবে পুলিশের তীক্ষ্ণ নজর এড়িয়ে যেতে পারেনি এই দম্পতিকে। অতুলের মৃত্যুর পর পুলিশের সন্দেহ হয়। এসএসপি অবিনাশ পাণ্ডে জানান, তদন্তে নেমে দামিনী ও তুষারের ফোনের কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখা হয়। ফোনের কথোপকথন এবং তুষারের মোবাইলে পাওয়া সাপের ছবি পুলিশের সন্দেহকে নিশ্চিত করে। এরপর দফায় দফায় জেরা করার পর দুজনেই তাঁদের অপরাধের কথা স্বীকার করে।

পুলিশ বর্তমানে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাপুড়েদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। এই ভয়াবহ ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি ছোট্ট প্লে-স্কুলের আড়ালে যে এমন এক নৃশংস হত্যার পরিকল্পনা দানা বাঁধছিল, তা কল্পনাও করতে পারেননি স্থানীয়রা। বিমার টাকা এবং অবৈধ প্রেমের টানে কীভাবে মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে, এটি তারই এক নজিরবিহীন উদাহরণ। অভিযুক্তরা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।