বিশ্বকাপ ফাইনালের উন্মাদনায় স্কুল বন্ধের হিড়িক! সোমবার সকালে আর ক্লাস নয়, জানুন বিস্তারিত

রবিবার রাতে ফুটবলের নক্ষত্রখচিত আকাশ স্পর্শ করতে চলেছে মেটলাইফ স্টেডিয়াম। ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে দুই শক্তিশালী দল—স্পেন এবং আর্জেন্টিনা। বিশ্বজুড়ে এই ফাইনাল নিয়ে যে পরিমাণ উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে, তা থেকে বাদ পড়েনি কেরলের স্কুলগুলিও। বিশ্বকাপের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে আনন্দদায়ক করে তুলতে এবং ম্যাচের পরদিন তাদের ক্লান্তি বা ঘুমের ব্যাঘাতের কথা মাথায় রেখে কেরলের একাধিক স্কুল কর্তৃপক্ষ সোমবার ছুটি ঘোষণা করেছে।
কোচির মারাডুর গ্রেগরিয়ান পাবলিক স্কুল তাদের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সোমবার ছুটি ঘোষণা করেছে। স্কুলের অধ্যক্ষ সুসান বারিড জানিয়েছেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা ফুটবলের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী। স্কুলে নিয়মিত আন্তঃস্কুল ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। যেহেতু বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি মধ্যরাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই ম্যাচ দেখার পরদিন সকালে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিত হওয়া এবং তাদের ক্লান্তি ও ঘুমের অভাবের বিষয়টি আমাদের কাছে উদ্বেগের কারণ ছিল। সেই কারণেই এই ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
শুধু গ্রেগরিয়ান পাবলিক স্কুলই নয়, কোঝিকোড়ের তিনটি ‘ভবনস’ (Bhavans) স্কুলের কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে, সোমবার তাদের স্কুলগুলি বন্ধ থাকবে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার যাতে নিশ্চিন্তে ও আনন্দের সঙ্গে বাড়িতে বসে ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে উত্তেজনার পারদ এতটাই তুঙ্গে যে, খেলা যদি অতিরিক্ত সময় বা পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত গড়ায়, তবে তা সোমবার ভোরের আলো ফোটা পর্যন্ত চলতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ের কথা মাথায় রেখে স্কুল প্রশাসন মনে করছে, শিক্ষার্থীরা যাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারে, তার জন্য সোমবার স্কুল বন্ধ রাখাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ।
মূলত ব্যক্তিগত পর্যায়ের এই ঘোষণার পর রাজ্যের আরও বেশ কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একই পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রিয় দলের সমর্থন এবং খেলার আবেগ যাতে পড়াশোনায় বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, তার জন্যই এই অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে স্কুলগুলি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এই সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দারুণ খুশি। পড়াশোনার চাপের মাঝে বিশ্বকাপের এই আনন্দময় মুহূর্তটি ছাত্রছাত্রীরা যাতে পরিবারের সঙ্গে প্রাণভরে উপভোগ করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কেরলের স্কুলগুলির এই নজিরবিহীন উদ্যোগ।