মূহুর্তে ছাই চারটি দোকান! ময়নায় অগ্নিকাণ্ডের তাণ্ডবে আতঙ্কিত এলাকাবাসী, কীসের ইঙ্গিত?

পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার রাত ৩টে নাগাদ ময়নার অন্নপূর্ণা বাজারে বিধ্বংসী আগুন লাগে। আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের দোকানগুলিতে। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বাজারের একটি বড় অংশ। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে বাজারের একটি দোকান থেকে প্রথম ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই আগুন বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে। রাতের অন্ধকারে আগুনের তীব্রতা দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। জীবন বিপন্ন করে বালতি করে জল ঢেলে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন স্থানীয়রা। কিন্তু আগুনের গতি ছিল অত্যন্ত তীব্র, ফলে তা নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একটি ইঞ্জিন। দমকলকর্মীদের দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে চারটি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে এবং আরও একটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনের গ্রাসে ব্যবসায়ীদের ফ্রিজ, মূল্যবান আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও ব্যবসার প্রয়োজনীয় সামগ্রী সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সর্বস্ব হারানো এক ব্যবসায়ী কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, “রাতে দোকান বন্ধ করে নিশ্চিন্তে বাড়ি গিয়েছিলাম। ভোরের দিকে এই দুঃসংবাদ পাই। চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল।”

এই অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখন নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে মনে করা হলেও, অগ্নিকাণ্ডের উৎস নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। এই বিপত্তির পেছনে নাশকতার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ময়না থানার পুলিশ এবং দমকল বিভাগ যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।

বাজারে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার চরম অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ময়নার মতো জনবহুল এলাকায় বাজারের এমন নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। স্থানীয়দের মতে, যদি দ্রুত দমকল না আসত, তবে বাজারের আরও অনেক দোকান আগুনের গ্রাসে চলে যেত। বাজারের এই অগ্নিকাণ্ড ব্যবসায়ীদের মনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শুরু হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদাররা সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেই আগুনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। আপাতত ঘটনাস্থলে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।