UTS অ্যাপে জেনারেল টিকিট কাটেন? রেলের নতুন ৪ নিয়মে না জানলে বড় জরিমানা!

দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং কাউন্টারের দীর্ঘ লাইন এড়াতে ভারতীয় রেলের অন্যতম জনপ্রিয় পরিষেবা হলো ‘UTS’ (Unreserved Ticketing System) অ্যাপ। ঘরে বসে অনায়াসেই জেনারেল টিকিট কাটার এই সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। তবে বর্তমানে এই পরিষেবার অপব্যবহার রুখতে এবং টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ এবার বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জেনারেল টিকিট বুকিংয়ের নিয়মে আনা হয়েছে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন, যা প্রতিটি ট্রেনযাত্রীর জন্য জেনে রাখা একান্ত প্রয়োজন। নতুন নিয়ম না মানলে জরিমানা থেকে শুরু করে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া পর্যন্ত হতে পারে।

নতুন নির্দেশিকায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে টিকিটের গ্রহণযোগ্যতা বা ‘ভ্যালিডিটি’র ক্ষেত্রে। আগে যেখানে পেপারলেস টিকিট বুক করার পর তা ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকত, এখন সেই সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ১ ঘণ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন আর বাড়ি বসে আগে থেকে টিকিট কেটে রাখা যাবে না। টিকিট কাটার ১ ঘণ্টার মধ্যেই আপনাকে স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনে উঠতে হবে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে টিকিটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক্সপায়ার হয়ে যাবে এবং সেই টিকিটের কোনো রিফান্ডও পাওয়া যাবে না।

দ্বিতীয়ত, ‘ফোন বাধ্যতামূলক’ নিয়ম জারি করেছে রেল। আগে অনেকে UTS অ্যাপ থেকে টিকিট কেটে স্ক্রিনশট বা পিডিএফ ফাইল হোয়াটসঅ্যাপে অন্যদের পাঠিয়ে দিত। নতুন নিয়মে, যে মোবাইল নম্বর দিয়ে টিকিট বুক করা হয়েছে, যাত্রার সময় সেই ফোনটিই যাত্রীর কাছে থাকা বাধ্যতামূলক। টিটিই (TTE) চেকিংয়ের সময় অ্যাপের ভেতরে থাকা ‘লাইভ টিকিট’ প্রদর্শন করতে হবে। অন্য কারোর ফোনে ফরোয়ার্ড করা টিকিট বা পুরনো স্ক্রিনশট এখন থেকে ‘অবৈধ’ বা ‘জাল টিকিট’ হিসেবে গণ্য হবে।

তৃতীয়ত, জিপিএস (GPS) লক ব্যবস্থাকে আরও কড়া করা হয়েছে। আগে স্টেশন থেকে ৫ কিলোমিটার দূর থেকেও টিকিট কাটা যেত, কিন্তু এখন সেই দূরত্ব কমিয়ে মাত্র ২ কিলোমিটার করা হয়েছে। অ্যাপে জিপিএস অন না থাকলে টিকিট বুকিং করা অসম্ভব। তাছাড়া, যে স্টেশন নির্বাচন করবেন, যাত্রীকে সেই স্টেশন থেকেই ট্রেনে উঠতে হবে। মাঝপথের কোনো স্টেশন থেকে উঠলে সেই টিকিট বাতিল বলে গণ্য হবে।

চতুর্থত, প্ল্যাটফর্ম টিকিট এবং রিটার্ন জার্নির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। এ১ (A1) ক্যাটাগরির স্টেশনগুলোতে প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দাম ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে এবং এর বৈধতা মাত্র ২ ঘণ্টা। এছাড়া, যাতায়াতের টিকিট কাটার সময় এখন থেকে নির্দিষ্টভাবে ‘রিটার্ন জার্নি’ অপশনটিই বেছে নিতে হবে। সিজন টিকিট রিনিউয়াল এখন পুরোপুরি অ্যাপ-নির্ভর করে দেওয়া হয়েছে, ফলে কাউন্টারে লাইন দেওয়ার আর প্রয়োজন নেই। ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে রেলের এই কড়া পদক্ষেপের উদ্দেশ্য স্বচ্ছতা বজায় রাখা। তাই বড় জরিমানা বা আইনি ঝামেলা এড়াতে স্টেশনে পৌঁছানোর পর এবং ট্রেনে ওঠার ঠিক আগে টিকিট কাটুন।