শিক্ষিকা ক্লাসের বাইরে! সহপাঠীর হাতে ৫ বছরের শিশুকে ৮ মিনিটের নারকীয় নির্যাতন, লখনউয়ের স্কুলে শিউরে ওঠা ঘটনা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ যেখানে শিশুদের কাছে একটি নিরাপদ স্থান হওয়ার কথা, সেখানে লখনউয়ের একটি বেসরকারি স্কুলের ঘটনা শিহরণ জাগিয়ে তুলেছে। বুধবার লখনউয়ের এএলএস অ্যাকাডেমিতে পাঁচ বছরের এক শিশুকে সহপাঠীর হাতে প্রায় আট মিনিট ধরে নির্মমভাবে মারধরের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পর হতবাক অভিভাবক থেকে শুরু করে স্কুল কর্তৃপক্ষও। অভিযুক্ত ক্লাস মনিটরকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকা উপস্থিত থাকাকালীন প্রায় ১৮ জন পড়ুয়া ছিল। শিক্ষিকা ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে উপস্থিত সকল পড়ুয়াকে বেঞ্চে মাথা নিচু করে বসে থাকার নির্দেশ দেন এবং ক্লাস মনিটরকে সহপাঠীদের ওপর নজর রাখার দায়িত্ব দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। শিক্ষিকা বের হওয়ার পরই শুরু হয় আসল ঘটনা। কয়েক জন পড়ুয়া মাথা তুললে মনিটর তাদের মারতে শুরু করে। এরপর পাঁচ বছরের এক ছাত্র মাথা তোলায় মনিটর তার বেঞ্চের কাছে ছুটে গিয়ে পরপর অন্তত চারটি চড় মারে। এমনকি জোর করে শিশুটির মাথা বেঞ্চে চেপে ধরারও চেষ্টা করে সে।

মারধরের জেরে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়লেও নির্যাতন থামেনি। সে ভয় পেয়ে শ্রেণিকক্ষের দরজার দিকে দৌড় দিলে মনিটর তাকে বাধা দেয়। টেনে-হিঁচড়ে ক্লাসরুমের ভেতরে নিয়ে এসে ফের চলে মারধর। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মনিটর ভেতর থেকে শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। শিশুটি পালানোর জন্য অন্য একটি দরজার দিকে গেলেও সেটিও বন্ধ থাকায় সে একপ্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। কিছু সময় দরজার সামনে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকার পর মনিটর আবার তার ওপর চড়াও হয় এবং টেনে নিজের আসনে নিয়ে গিয়ে মারধর শুরু করে। এই দীর্ঘ সময় জুড়ে অন্যান্য পড়ুয়ারা ভয়ে মাথা নিচু করে বসেছিল।

প্রায় ১০ মিনিট পর শিক্ষিকা ফিরে এসে দরজায় কড়া নাড়লে দরজা খোলে। সেই সময় শিশুটি শিক্ষিকার কাছে গিয়ে মনিটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়। শিক্ষিকা শিশু এবং মনিটর—উভয়ের সঙ্গেই কথা বলেন। কিন্তু ঘটনার আসল ভয়াবহতা প্রকাশ্যে আসে শিশুটি বাড়ি ফেরার পর। তার মুখ ফোলা এবং শরীরে একাধিক আঘাতের দাগ দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়। অভিভাবকরা দ্রুত স্কুলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করতেই পুরো ঘটনা সামনে আসে।

এই নক্করজনক ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ক্লাস মনিটরকে অবিলম্বে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি শিশুর ওপর অপর এক শিশুর এহেন পাশবিক আচরণ শিক্ষা ব্যবস্থায় নজরদারির অভাবকেই বড় করে তুলছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অভিভাবক মহলে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। কেন ক্লাসে শিক্ষিকার অনুপস্থিতিতে শিশুটিকে একটি মনিটরের জিম্মায় রাখা হয়েছিল এবং আট মিনিট ধরে চলা এই নির্যাতন কেন তৎক্ষণাৎ ধরা পড়ল না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।