ভারত-নেপাল সীমান্তে বড় সাফল্য! এসএসবি-র জালে ৬৯ বছরের বৃদ্ধ, উদ্ধার কোটি টাকার বিদেশি হিরে

ভারত-নেপাল সীমান্তের নিউ মেচি ব্রিজে এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করল সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)। বৃহস্পতিবার বিকেলে রানিডাঙা বিআইটি ক্যাম্পের ৪১ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানদের রুটিন তল্লাশিতে ধরা পড়ল তিনটি বহুমূল্য বিদেশি হিরে। ঘটনার সূত্রপাত একটি চারচাকা গাড়িকে কেন্দ্র করে, যেটি ভারত থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। সন্দেহভাজন গাড়িটি থামিয়ে জওয়ানরা যখন চালক ও সহযাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করেন, তখনই উদ্ধার হয় ওই উজ্জ্বল হিরেগুলো।
আটককৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃত সহযাত্রীর নাম পূর্ণ কুমার তামাং (৬৯), যিনি নেপালের ললিতপুরের বাগমতি প্রদেশের বাসিন্দা। তাঁর কাছ থেকে একটি বৈধ নেপালি পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে। গাড়ির চালক সুজিত লোহার (৩১) দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ির বাসিন্দা বলে জানা গেছে। জওয়ান ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) কর্মকর্তাদের যৌথ জেরায় পূর্ণ কুমার তামাং স্বীকার করেছেন যে, এই হিরেগুলো তাঁরই। তিনি নিজেকে হংকংয়ে জন্মগ্রহণকারী একজন নেপালি নাগরিক হিসেবে দাবি করেছেন। তাঁর কাছে হংকংয়ের পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড এবং একটি মেয়াদোত্তীর্ণ নেপালি পাসপোর্টও পাওয়া গিয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত ২১ জুন নেপাল থেকে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন তামাং এবং এতদিন সিকিমে অবস্থান করছিলেন। তবে উদ্ধার হওয়া হিরেগুলোর স্বপক্ষে কোনো বৈধ ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ, চালান বা শুল্ক সংক্রান্ত কাগজপত্র তিনি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে এটি স্পষ্ট যে হিরেগুলো অবৈধভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাচারের চেষ্টা চলছিল। এই বহুমূল্য রত্নগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি হওয়ায় জওয়ানরা তাৎক্ষণিকভাবে তিনটি হিরে এবং বহনকারী চারচাকা গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ধৃত দুই ব্যক্তি, উদ্ধার হওয়া হিরে এবং গাড়িটিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পানিট্যাঙ্কি শুল্ক দফতরের (কাস্টমস) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন এটি খুঁজে বের করা যে, এই পাচারের পিছনে কোনো আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের হাত আছে কি না। হিরেগুলো ভারত থেকে নেপাল হয়ে হংকং বা অন্য কোনো দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে গভীর অনুসন্ধান। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি, গোয়েন্দারা এখন নেপাল ও ভারতের মধ্যে এই গোপন রুটটি কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন। এই ঘটনা সীমান্ত সুরক্ষায় এসএসবি-র এক বড় সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।