মৃত্যুশয্যায় সোনম ওয়াংচুক, যন্তর মন্তরে তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ, সরকারের ঘুম কি ভাঙবে?

টানা ১৮ দিনের মরণপণ অনশন। শরীর শুকিয়ে হাড় জিরজিরে, চোখে-মুখে চরম ক্লান্তির ছাপ, তবুও জেদ বিন্দুমাত্র কমেনি। দিল্লির যন্তর মন্তরে বসে থাকা পরিবেশকর্মী ও সমাজসেবী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা এখন কার্যত সংকটাপন্ন। নিট (NEET) সহ সর্বভারতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু করা তাঁর এই আন্দোলন এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বৃহস্পতিবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দপকের শেয়ার করা ভিডিও বার্তায় সোনমের শারীরিক অবস্থার যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে, তা দেখে শিউরে উঠছেন সমর্থকরা। ভিডিওতে দেখা যায়, শরীর এতটাই দুর্বল যে সমর্থকদের সাহায্য ছাড়া এক পাও চলতে পারছেন না তিনি। শৌচালয়ে যাওয়ার পথে দুবার পড়ে যেতে গিয়ে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। তবে এই শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও সোনমের কণ্ঠস্বর অটল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “২০ জুলাই সংসদ অভিযান সফল করার জন্য আমি বেঁচে থাকবই। যদি তাতে ব্যর্থ হই, তবে ভূত হয়ে ফিরে আসব।”
চিকিৎসকদের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ডাক্তার সতীশ লাম্বা জানিয়েছেন, টানা অনশনের ফলে সোনমের শরীরে গ্লুকোজের মজুত শেষ। শরীর এখন পেশি ক্ষয় করতে শুরু করেছে, যা সরাসরি লিভার এবং কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দিল্লি হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করেছে। আদালতের নির্দেশ, সোনমের স্বাস্থ্যের দিকে যেন নিয়মিত নজর রাখা হয় এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা হয়।
এই আন্দোলনকে ঘিরে সরব হয়েছেন বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল যন্তর মন্তরে গিয়ে সোনমের সঙ্গে দেখা করে তাঁর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। কেজরিওয়ালের অভিযোগ, “প্রতি বছর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে, যার মূল্য চোকাতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নৈতিক দায় স্বীকার করে অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।” জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাও কেন্দ্রকে দ্রুত সোনমের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। শিল্পী মহলের পক্ষ থেকেও বিশাল দদলানি, সোনাক্ষী সিনহা এবং শোভা দের মতো ব্যক্তিত্বরা তাঁর স্বাস্থ্যের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবে সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙতে নারাজ এই লাদাখি শিক্ষাবিদ। তাঁর সাফ বার্তা, “শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের এই লড়াই গণতন্ত্রের এক বাস্তব পাঠ।” ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের দিনটি ঘিরে এখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। সোনমের জেদ বনাম সরকারের নীরবতা—শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয় পরিস্থিতি, সেটাই এখন দেখার।