লোহিত সাগরেও যুদ্ধের দামামা! ইরান-আমেরিকা সংঘাতে বিশ্বজুড়ে বড় বিপদের আশঙ্কা

ইরান ও আমেরিকার সংঘাতের আগুন বর্তমানে এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার লোহিত সাগর (Red Sea) ঘিরে নতুন করে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—যদি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়, তবে তারা লেবাননের হুথি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে লোহিত সাগর বন্ধ করে দেবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জলপথ যদি বন্ধ হয়ে যায়, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাবে।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যবর্তী শান্তি চুক্তি কার্যত ধূলিসাৎ হয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতে আমেরিকার বিমান হামলা ইরানের রেল স্টেশন, বিমানবন্দর এবং বিভিন্ন কৌশলগত সেতুর ওপর ব্যাপক আঘাত হেনেছে। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী একাধিক জাহাজে হামলা চালিয়ে উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়েছে। লোহিত সাগরকে হাতিয়ার করে তেহরান মূলত ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে পঙ্গু করতে চাইছে।
এই ভূ-রাজনৈতিক সংকট নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে নয়াদিল্লিও। ভারত থেকে ইউরোপে পণ্য রপ্তানি ও আমদানি করার সবথেকে সংক্ষিপ্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হলো লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল। যদি লোহিত সাগরে যুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে, তবে ভারত ও ইউরোপের মধ্যকার বাণিজ্যিক যোগাযোগ বিপর্যস্ত হবে। ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং ও শিল্প ক্ষেত্রে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। উল্লেখ্য, ইউরোপ থেকে বিপুল পরিমাণ শিল্প যন্ত্রাংশ ভারত আমদানি করে। লোহিত সাগরের রুট বন্ধ হয়ে গেলে এই যন্ত্রাংশের সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ইউনিটে। যন্ত্রাংশের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির ফলে শিল্প ক্ষেত্র বড়সড় ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির মেরুদণ্ড এই সংঘাতের জেরে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।