মমতা-শিবিরে ভাঙনের সুর তুঙ্গে! ব্রাত্য বসু ও সন্ধ্যারাণী টুডু কি হাত মেলাচ্ছেন ঋতব্রতর সঙ্গে?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে যে পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে, তা এখন এক চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নিয়েছে। একদিকে দলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন, অন্যদিকে একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলবদলের জল্পনা—সব মিলিয়ে কালীঘাটের অন্দরমহলে এখন চরম অস্থিরতা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং জঙ্গলমহলের প্রভাবশালী আদিবাসী নেত্রী সন্ধ্যারাণী টুডুর সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে।

দমদম বিধানসভা থেকে হারের পর থেকেই ব্রাত্য বসুকে কার্যত জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, তিনি নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু ব্রাত্য নন, মানবাজারের প্রাক্তন বিধায়ক সন্ধ্যারাণী টুডুর নামও এই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কঠোর বার্তা দিয়েছেন, তা এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। মমতা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “পুলিশ বা সিআইডি-র চাপে যাঁরা চলে যেতে চাইছেন, তাঁরা ২১ জুলাইয়ের আগেই লোটা-কম্বল নিয়ে চলে যান। আমি কাউকে আটকাব না।” এই মন্তব্য কার্যত বিদ্রোহী বিধায়কদের প্রতি তাঁর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মান্যতা দেওয়া প্রায় ৬০ জন বিধায়কের বিদ্রোহী গোষ্ঠীতেই ব্রাত্য ও সন্ধ্যারাণী যোগ দিতে চলেছেন। এই বিধায়ক গোষ্ঠী এখন তৃণমূলের ‘আসল’ পরিচয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দুই শিবিরই এখন উত্তপ্ত।

শুধুমাত্র বিধানসভাতেই নয়, লোকসভাতেও তৃণমূলের অস্তিত্ব সংকটে। মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে প্রায় ১৯ থেকে ২০ জন সাংসদই এখন বিদ্রোহী। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে সাংসদদের একটি বড় অংশ এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের আভাস দিয়েছে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তারা আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন। রাজ্যসভাতেও পরিস্থিতি একই। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সম্প্রতি কোয়েল মল্লিকের ইস্তফার পর তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

একুশে জুলাইয়ের মাহেন্দ্রক্ষণের ঠিক আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার। বিধায়ক থেকে সাংসদ—একের পর এক নেতার নিষ্ক্রমণে তৃণমূল কংগ্রেসের আগামী দিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। বিদ্রোহীরা যদি দল ছাড়েন, তবে তা হবে তৃণমূলের ইতিহাসে এক বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়।