সাক্ষী ভয় দেখানোর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি, সুপ্রিম কোর্টে বড় আপডেট লখিমপুর খেরি মামলায়

লখিমপুর খেরি হিংসা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় সাক্ষী ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্রকে ‘ক্লিনচিট’ দিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির সময় উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে পেশ করা স্ট্যাটাস রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আদালতকে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, লখিমপুর খেরি হিংসা মামলায় সাক্ষী বা অভিযোগকারীদের ভয় দেখানোর ঘটনার সঙ্গে আশিস মিশ্র বা তাঁর বাবার কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলছিল। শুনানির সময় রাজ্য পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয় যে, গত বছর অক্টোবরে সাক্ষী ভীতি প্রদর্শন সংক্রান্ত যে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছিল, তার তদন্ত ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তকারী দল কোনো প্রমাণ পায়নি যা দিয়ে আশিস মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। আদালত পুলিশের এই স্ট্যাটাস রিপোর্টটি নথিবদ্ধ করে নিয়েছে।
পুলিশি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় অমনদীপ সিং নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল এবং স্থানীয় আদালত তা গ্রহণও করেছে। তবে অজয় মিশ্র ওরফে টেনি এবং আশিস মিশ্রের ভূমিকা নিয়ে তদন্তে কোনো প্রমাণ মেলেনি। স্ট্যাটাস রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মামলার বাকি ৬৪ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এখনও বাকি রয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মাসে ধার্য করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ অভিযোগকারীকে এই রিপোর্টের জবাবে একটি অতিরিক্ত হলফনামা (Affidavit) দাখিলের জন্য দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর বলজিন্দর সিং নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁকে বয়ান বদলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তখন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। আদালতের কড়া নির্দেশের পরই পুলিশ বাধ্য হয়ে পাঞ্জাবের মুক্তসারে গিয়ে অভিযোগকারীর বয়ান রেকর্ড করে মামলাটি নথিভুক্ত করেছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৯৫-এ, ৫০৬ এবং ১২০-বি ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ৩ অক্টোবর ২০২১ সালে লখিমপুর খেরির ঘটনাটি ঘটেছিল, যেখানে ৪ জন কৃষকসহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে যে আশিস মিশ্রের কনভয়ের গাড়িগুলো বিক্ষোভকারী কৃষকদের পিষে দিয়েছে। বর্তমানে আশিস মিশ্র সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্ত রয়েছেন। পুলিশি ক্লিনচিট পেলেও এই মামলার আইনি লড়াই যে এখনও দীর্ঘ, তা বলাই বাহুল্য। পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।