হরমুজ প্রণালীতে বড় বিপদের আশঙ্কা! বড় নির্দেশিকা জারি করল ভারত সরকার

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এবং হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ক্রমাগত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারত সরকার। সরাসরি নৌ-পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভারতীয় নাবিকদের প্রাণহানির ঝুঁকি এড়াতে কেন্দ্র সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের নিয়োগ বা মোতায়েন করা যাবে না।
সম্প্রতি ওই অঞ্চলে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে, যার জেরে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে গত কয়েকদিনে হরমুজ রুট দিয়ে যাওয়ার সময় একাধিক জাহাজে হামলার জেরে দুই ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই দুঃখজনক ঘটনার পরই ভারত সরকার বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া ওই রুটে তাদের কাজ করতে দেওয়া সম্ভব নয়।
এই নির্দেশের ফলে বিশ্বের প্রধান শিপিং কোম্পানিগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। যারা মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করে, তাদের এখন ভারতীয় নাবিকদের বিকল্প খুঁজতে হবে অথবা এই রুটে অপারেশনের ক্ষেত্রে নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং (DG Shipping) এই মর্মে এক আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় ক্রু বা নাবিকদের এই ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কোনো জাহাজে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সামুদ্রিক পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রুটে ড্রোন হামলা, লিম্পেট মাইন বা অন্যান্য নাশকতা চালানোর ঘটনা নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত শুধু ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষার জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে নিজের নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষার একটি বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভারত সরকার শিপিং কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যে, বর্তমানে কর্মরত নাবিকদের যেন অবিলম্বে নিরাপদ অঞ্চলে সরিয়ে আনা হয় বা তাদের অন্য কোনো রুটে বদলি করা হয়।
ভারত সরকারের এই কঠোর অবস্থানের প্রভাব বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের ওপরও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু বিশ্ববাজারে তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ করা হয়, তাই নাবিকদের অভাবে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাণিজ্যের চেয়ে ভারতীয় নাগরিকদের জীবন অনেক বেশি মূল্যবান। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর সরকার পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আপাতত, ভারতীয় নাবিকদের জন্য হরমুজ প্রণালী এখন ‘নো-গো জোন’ হিসেবেই চিহ্নিত থাকছে।