এক কোপে কাটুন মাংস, পকেটে পুরুন নগদ ১০ হাজার! ঝটকা মাংস নিয়ে বিধায়কের নয়া ফরমান

সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই বীজপুর এলাকার মাংস ব্যবসায়ীরা দেখলেন অদ্ভুত কাণ্ড। দোকান খোলার আগেই বিধায়কের অনুগামীরা এসে সাঁটিয়ে দিয়ে গিয়েছেন পোস্টার। সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা— ঝটকা মাংসের দোকান খুললেই মিলবে ১০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাড়া পড়ে গিয়েছে গোটা এলাকায়। একদিকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ, অন্যদিকে খাদ্যরসিকদের মধ্যেও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
সাধারণত খাসির মাংসের দোকানে ‘আড়াই প্যাঁচে’ বা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে মাংস কাটার চল রয়েছে, যাকে হালাল মাংস বলা হয়। কিন্তু বীজপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের ঘোষণা অনুযায়ী, যারা খাসির মাংস ‘ঝটকা’ পদ্ধতিতে অর্থাৎ এক কোপে বা এক প্যাঁচে কাটবেন, তাদের প্রত্যেকেই ব্যক্তিগতভাবে ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেবেন বিধায়ক। বিধায়ক জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য মূলত ঝটকা মাংসের দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও ব্যবসায়ীদের একাংশ বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী দীপ্যেন্দ্র প্রসাদ বলেন, “এই এলাকায় ঝটকা মাংসের দোকান হাতে গোনা। বিধায়কের এই উদ্যোগ অবশ্যই ভালো, কিন্তু সমস্যা হলো দক্ষ কর্মীর অভাব। আড়াই প্যাঁচে কাটার অভ্যাস অনেকের থাকলেও ঝটকা মাংস কাটার জন্য পর্যাপ্ত লেবার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।” যদিও বিধায়কের এই ঘোষণায় নতুন দোকান খোলার হিড়িক পড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
খাদ্যরসিকদের মধ্যে আবার অন্য এক উৎসাহ কাজ করছে। অনেকেরই ধারণা, মাংস এক কোপে কাটলে তার স্বাদ ও গুণমান অনেক বেশি অটুট থাকে। এক ক্রেতা চম্পা দাস বলেন, “অনেকদিন ধরেই আমাদের চাহিদা ছিল যাতে এক কোপে কাটা মাংস পাওয়া যায়। অনেকের বিশ্বাস এতে স্বাদের তারতম্য হয়। বিধায়কের এই সিদ্ধান্তে আমরা খুশি।” এলাকার আরও এক ক্রেতা জানান, বাঙালিরা তৃপ্তি করে খেতে ভালোবাসেন, তাই ঝটকা মাংসের সহজলভ্যতা তাদের কাছে পাওনা।
বিরোধীদের বা সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসবে? তবে বিধায়ক সুদীপ্ত দাস আগেই সব জল্পনা মিটিয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই পুরস্কারের জন্য কোনো সরকারি তহবিল ব্যবহার করা হবে না। তিনি বলেন, “বিধায়ক তহবিলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এই টাকা আমি আমার ব্যক্তিগত আয় থেকে ব্যবসায়ীদের দেব। মানুষের জন্য কাজ করার আনন্দই আলাদা।”
উল্লেখ্য, বিধায়কের এই অদ্ভুত অথচ বিতর্কিত ঘোষণা বর্তমানে বীজপুরের রাজনীতির চর্চার কেন্দ্রে। একদিকে যেমন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের বিষয় জড়িয়ে রয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনীতি ও পেশাদারিত্বের দিকটিও উঠে আসছে। এখন দেখার বিষয়, ১০ হাজার টাকার পুরস্কারের টানে কতজন ব্যবসায়ী ঝটকা মাংসের দোকান খুলতে এগিয়ে আসেন। সব মিলিয়ে বীজপুরের এই ‘মাংস বিপ্লব’ এখন আলোচনার তুঙ্গে।