টেকনিশিয়ানদের বকেয়া নিয়ে উত্তাল টলিপাড়া, সোমবার থেকে কি বন্ধ হবে ‘দুলারি’-র কাজ?

জি বাংলার পর্দায় ২৯ জুন থেকে যাত্রা শুরু হয়েছে নতুন মেগা ধারাবাহিক ‘দুলারি’-র। পারিবারিক আবেগ ও টানাপড়েনের গল্পের সুবাদে প্রথম থেকেই দর্শকদের নজর কেড়েছে স্বর্ণেন্দু সমাদ্দার পরিচালিত এই ধারাবাহিক। কিন্তু পর্দার সামনের এই জৌলুসের আড়ালেই তৈরি হয়েছে ঘোরতর অন্ধকার। টলিপাড়ার অন্দরে কান পাতলে এখন শোনা যাচ্ছে তীব্র ক্ষোভের সুর। অভিযোগ, ধারাবাহিকটির সঙ্গে যুক্ত টেকনিশিয়ানদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দীর্ঘসময় ধরে বকেয়া রয়েছে।

পরিস্থিতি এতটাই গম্ভীর যে, গতকাল ১৫ জুলাই ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার অন্তর্গত ১৮টি গিল্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে টেকনিশিয়ানদের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, যদি আগামী রবিবারের মধ্যে বকেয়া টাকা পরিশোধ না করা হয়, তবে সোমবার থেকে ‘দুলারি’-র সেটে আর কাজ করতে যাবেন না কোনো টেকনিশিয়ান।

দ্য ওয়ালের হাতে আসা একটি নথি থেকে জানা গিয়েছে, ধারাবাহিকটির সঙ্গে যুক্ত টেকনিশিয়ানদের পাওনা টাকার পরিমাণ কয়েক লক্ষ। নথির হিসাব অনুযায়ী, এক্সট্রা টেকনিশিয়ানদের বকেয়া প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা, লট টেকনিশিয়ানদের বকেয়া ১২ লক্ষ টাকা এবং সেট নির্মাণ কর্মীদের পাওনা প্রায় ২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও গত ৭ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত কাজ করা দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ৪ লক্ষ টাকারও বেশি বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে এই আর্থিক অসামঞ্জস্য প্রযোজনা সংস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।

এক টেকনিশিয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “টাকা না নিয়ে দিনের পর দিন কাজ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা সরকারের ওপর ভরসা রেখে এতদিন কাজ চালিয়ে গিয়েছি, কিন্তু ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে।” ফেডারেশনের এই কঠোর অবস্থান যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে ধারাবাহিকটির শুটিং সূচি যে বিশৃঙ্খলার মুখে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য। নতুন মেগা হিসেবে ‘দুলারি’-কে নিয়ে চ্যানেলের বড় প্রত্যাশা ছিল, কিন্তু এই বিতর্ক এখন সেই সাফল্যের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রযোজনা সংস্থা MACNEIL ENGINEERING PVT. LTD.-এর কর্ণধার প্রদীপ চুরিওয়াল। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “আমাদের কোনো টাকাই বকেয়া নেই। যে কোনো ব্যক্তি অফিসে এসে হিসাব মিলিয়ে দেখে নিতে পারেন। যদি কারও কোনো দাবি থাকে, তবে সরাসরি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।” একদিকে ফেডারেশনের হুঁশিয়ারি এবং অন্যদিকে প্রযোজকের সাফাই—এই দুইয়ের টানাপড়েনে এখন ‘দুলারি’-র ভবিষ্যৎ দোদুল্যমান। সোমবার থেকে ক্যামেরা গড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।