অনশনে বিপন্ন জীবন, সোনম ওয়াংচুকের জরুরি চিকিৎসার নির্দেশ দিল্লি হাইকোর্টের

নিট (NEET) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। লাগাতার এই অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হওয়ায় হস্তক্ষেপ করল দিল্লি হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ বৃহস্পতিবার সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, অনশনরত ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের দিকে প্রতিদিন নজর রাখতে হবে এবং প্রয়োজনমতো দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করতে হবে।

আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা উপস্থিত ছিলেন। তিনি আদালতকে নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের একটি দল ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের উপর নিয়মিত নজর রাখছে। কেন্দ্রের এই অবস্থানের প্রশংসা করে আদালত জানিয়েছে, “আমরা চাই সরকারি চিকিৎসকরা নিয়মিতভাবে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করুন। চিকিৎসকদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে যদি কোনও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তবে অবিলম্বে তা দিতে হবে। প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।”

আইনজীবী রাকেশ কুমার সাইনির দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ওই আবেদনে ওয়াংচুকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা এবং তাঁর জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও ভিটামিনের ব্যবস্থা করার আরজি জানানো হয়েছিল। আপাতত আদালত এই মামলাটি নিষ্পত্তি করলেও, নিয়মিত মেডিকেল মনিটরিংয়ের বিষয়টি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে।

অন্যদিকে, প্রবীণ চিকিৎসক সতীশ লাম্বা জানিয়েছেন যে ওয়াংচুকের শরীরের ওপর এই অনশনের প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ। গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরুর পর থেকে তাঁর ওজন ৯ কেজি কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৬.৬৫ কেজিতে। এমনকি গত ২৪ ঘণ্টায় তাঁর ওজন হ্রাস পেয়েছে ৫০০ গ্রাম। চিকিৎসকের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর রক্তচাপ ১০৫/৬১ mmHg, রক্তে সুগার ৮০ mg/dL এবং অক্সিজেনের মাত্রা ৯৭% রেকর্ড করা হয়েছে। অনশন দীর্ঘায়িত হওয়ায় শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কার্যক্ষমতা নিয়েও উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের পর এখন সরকার কতটা দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সারা দেশ।