শ্রাবণে অর্থনীতিতে জোয়ার! কাওয়ার যাত্রার হাত ধরে উত্তর প্রদেশে ১০ হাজার কোটির বাণিজ্য

আগামী ৩০শে জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে শ্রাবণ মাস। আর এই মাসের হাত ধরেই শুরু হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বার্ষিক তীর্থযাত্রা—‘কাওয়ার যাত্রা’। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার, গৌমুখ, গঙ্গোত্রী কিংবা বারাণসী ও প্রয়াগরাজ থেকে গঙ্গার পবিত্র জল মাথায় নিয়ে পায়ে হেঁটে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন। তবে এই যাত্রার ধর্মীয় মাহাত্ম্যের পাশাপাশি বর্তমানে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে এক বিশাল প্রভাব ফেলছে।
২০১৭ সাল থেকেই উত্তর প্রদেশে কাওয়ার যাত্রীদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। লখনউয়ের গিরি ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের ২০২৪ সালের গবেষণা অনুযায়ী, এই যাত্রা উত্তর প্রদেশের অর্থনীতিতে প্রায় ১০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি রুপির বাণিজ্য তৈরি করছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে সারা দেশ থেকে প্রায় ৪৫.২ মিলিয়ন ভক্ত এই যাত্রায় অংশ নিয়েছেন, যেখানে উত্তর প্রদেশ থেকেই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৫ মিলিয়নের কাছাকাছি।
কাওয়ার যাত্রা এখন ছোট থেকে মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য এক অনন্য সুযোগ। পথের ধারের ধাবা, রেস্তোরাঁ, ফল ও সবজি বিক্রেতা, বস্ত্র ব্যবসায়ী এবং মৃৎশিল্পীরা এই মৌসুমে সাধারণ সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বেশি লাভ করেন। একটি সাধারণ ধাবা কাওয়ার যাত্রার মরসুমে ২ লক্ষ থেকে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করে থাকে। এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের পকেটই ভারী করছে না, বরং স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য নিশ্চিত আয়ের ব্যবস্থা করছে। যে শ্রমিক সারা বছর সামান্য কাজ করতেন, তিনি এই সময় প্রতিদিন ৬০০ টাকা পর্যন্ত রোজগার এবং দুবেলা পেট ভরে খাবার পাচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে হোটেল ও ধর্মশালা, দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার, ওষুধের দোকান, তাঁবু খাটানো এবং পরিবহণ খাত। উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ, মুজাফফরনগর, মিরাট, সাহারানপুরসহ বিভিন্ন জেলার অর্থনীতি এই যাত্রার ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। সরকারও এই যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাস্তা মেরামত, সিসিটিভি নজরদারি, ড্রোন ব্যবহার এবং চিকিৎসা শিবিরের জন্য কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। সব মিলিয়ে, কাওয়ার যাত্রা এখন আর কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি উত্তর ভারতের মৌসুমী অর্থনীতির এক অপরিহার্য চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার এই জোয়ার একে এক বিশাল ‘অর্থনৈতিক উৎসবে’ পরিণত করেছে।