রথযাত্রার দিন মর্মান্তিক পরিণতি! দিঘা যাওয়ার পথে লরি-বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন ৪, শোকের ছায়া এলাকায়

রথযাত্রার পবিত্র দিনে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল পূর্ব মেদিনীপুর। বৃহস্পতিবার সকালে দিঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়কে ভয়াবহ লরি ও বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন চারজন। এই দুর্ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উৎসবের দিনে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকা স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

জানা গিয়েছে, বুধবার রাত থেকেই ওই এলাকায় ঝিরঝিরে বৃষ্টি হচ্ছিল। কলকাতা থেকে যাত্রী নিয়ে দিঘাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নন্দকুমারের হেঁড়িয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দাঁড়িয়ে পড়ে। বাসটি বিকল হয়ে যাওয়ায় চালক ও কর্মীরা যাত্রীদের নামিয়ে বাস সারানোর কাজ করছিলেন। সেই সময়েই দিঘাগামী একটি দ্রুতগতির লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় খেজুরি থানার পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। জখমদের উদ্ধার করে দ্রুত হেঁড়িয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত বাকি তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তমলুকের তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

মৃতদের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে—তারা হলেন তপন দাস, শিবব্রত পট্টনায়ক, অশোক মাইতি এবং শুভদীপ মণ্ডল। রথযাত্রার দিন এমন ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতদের পরিবার এবং এলাকায়।

দুর্ঘটনার পর দিঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘটনার অভিঘাতে বেশ কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। ঘাতক লরিটিকে পুলিশ আটক করলেও, দুর্ঘটনার পরই লরির চালক ঘটনাস্থল থেকে পলাতক। পুলিশ ঘাতক চালকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে। উৎসবের আবহে এই পথ দুর্ঘটনা আবারও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।